Skip to content

অনিয়মের গুদামে আটকে থাকে কৃষকের বীজ | বাণিজ্য

অনিয়মের গুদামে আটকে থাকে কৃষকের বীজ | বাণিজ্য

<![CDATA[

ভোলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের রবিশস্যের বীজ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিলাররা গুদাম থেকে উত্তোলন করা বীজ প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে সিন্ডিকেট করে কালোবাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারি দফতরগুলো একে অপরকে দায়ী করছে।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরমিয়ার হাটের ঠিকানায় সজিব স্টোর, সুমাইয়া বীজ ভান্ডার ও নাহিদা বীজ ভান্ডার নামের ৩টি প্রতিষ্ঠানকে বিএডিসি ডিলারের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। লাইসেন্সে উল্লেখ করা ঠিকানায় এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো দোকান বা গুদাম নেই। জানা গেছে, তিনটি লাইসেন্সই জনৈক হাদিসুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নামে হলেও তারা কেউ এ ব্যবসা করেন না।

বীজ ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘এ ঠিকানাই তো চিনি না। এদের কোনো দোকান নেই। আমরা বীজ কিনে বিক্রি করি, আমরাই যখন দোকান চিনি না, কৃষকরা তাদের কোথায় পাবে!’

আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়ায় সার-ভুট্টা বীজ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

বোরহানউদ্দিন বাজারের দাদা বীজ ভান্ডারের মালিক মো. নাজেম উদ্দিনের একটি দোকান থাকলেও তিনি ভাই, বোন, ভগিনীপতি, ভাগনেসহ আত্মীয়স্বজনের নামে ১৭টি লাইসেন্সে বীজ উত্তোলন করছেন। সম্প্রতি গমবীজ উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রির পর পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে বীজ ডিলার মো. নাজেম উদ্দিন বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্যি নয়। একজন লোকের নামে একটি লাইসেন্সই হয়, ১৭টি হয় না।’

দীর্ঘদিন লাইসেন্সধারী ডিলারদের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও দু-মাস আগে তদন্ত করে তাদের দোকান ও গুদাম পেয়েছেন বলে দাবি বিএডিসির স্থানীয় কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন: ফেনীতে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ

বিএডিসির (বীজ বিপণন) সিনিয়র সহকারী পরিচালক ইশরাত জাহান বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই ঠিকানা অনুযায়ী দোকান মনিটরিং করি। আমার জানামতে, প্রত্যেক ডিলারের দোকান আছে।’

দ্বিগুণ দামে কেনা বীজের জন্য ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে কৃষকদের। আর চাহিদা বাড়ায় খুচরা বাজারে বীজের দাম বেড়ে গেছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর বলেন, ‘বীজের চাহিদা বাড়ায় খুচরা বাজারে বীজের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আমার জানামতে বাজারে বীজের সংকট নেই।’

আরও পড়ুন: মৌসুমের শুরুতেই সার কারসাজির অভিযোগ

তবে বরিশাল বিএডিসির উপপরিচালক মো. রমিজুর রহমান বলছেন, ‘এসব দেখার জন্য বীজ বিপণন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আছে। তারা এসব বিষয়ে তদারকি করবে। আমাদের দায়িত্ব হলো ডিলাদের কাছে বীজ পৌঁছে দেয়া।’

এ বিষয়ে ভোলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এ বছর জেলায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে রবিশস্য বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে গম আবাদ হবে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *