Skip to content

আগরতলা দূতালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন | আন্তর্জাতিক

আগরতলা দূতালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

জমকালো আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশন।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় আগরতলার বাংলাদেশ দূতালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। 

বিকেল ০৩টা ৩৫ মিনিটে দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে এ মিশনের প্রথম সচিব মো. রেজাউল হক চৌধুরী ও এ মিশনের প্রথম সচিব মো. আল আমীন।

আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে আগরতলায় বিজয় দিবস উদযাপন

পরে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিশনের প্রথম সচিব মো. রেজাউল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব স্বপন কুমার ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ ড. মোজাহিদ রহমান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আশিষ কুমার বৈদ্য প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও আনন্দের দিন, প্রকৃতপক্ষে বিজয়ের পূর্ণতা প্রাপ্তির দিন। ১৯৭২ সালের এ দিনে বাংলাদেশের মহান মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ নয় মাস ১৪ দিন পর পাকিস্তানের অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন মাতৃভূমিতে সগৌরবে ও বীরদর্পে প্রত্যাবর্তন করেন। ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে আগরতলাস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশন বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মাদ তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করলেও বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া সেই বিজয় ছিল অপূর্ণ ও অতৃপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু সসম্মানে মাথা উঁচু করে, বীরেরবেশে স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন। দেশ ফিরে পায় তার প্রিয় কিংবদন্তি সন্তানকে, জাতি ফিরে পায় তাদের মহান নেতা ও জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে। মুক্ত স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পেয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ী বাঙালি জাতি অনুভব করে বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ।’

আরও পড়ুন: অন্যরকম আয়োজনে শেখ রাসেলকে স্মরণ করল আগরতলা দূতালয় 

সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘দেশবিরোধী চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ রোধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন ধ্বংস করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের সোপান বেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’

আরিফ মোহাম্মাদ তার সমাপনী বক্তব্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ, সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা-বোন এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বতোভাবে সহযোগিতার জন্য ভারতের জনগণ, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারত সরকার, মিত্র বাহিনী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংবাদকর্মী ও বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভারতের অংশীদারিত্বের ওপর আলোকপাত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরাবাসী বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের জন্য যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল তাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সহকারী হাই কমিশনার।

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আগরতলা দূতালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন

তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের এ মাহেন্দ্রক্ষণে আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, দেশি-বিদেশি সব যড়যন্ত্র প্রতিহত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকরী ভূমিকা রাখব।’

প্রথম সচিব মো. আল আমীন আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়।

 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *