Skip to content

আরসা সদস্যরা আশ্রয়শিবিরে আগুন দিয়েছে দাবি রোহিঙ্গাদের | বাংলাদেশ

আরসা সদস্যরা আশ্রয়শিবিরে আগুন দিয়েছে দাবি রোহিঙ্গাদের | বাংলাদেশ

<![CDATA[

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী-১১ নম্বর আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা সদস্যরা আগুন লাগিয়েছে বলে দাবি করেছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। তবে এ ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঘটনাটি নাশকতা নাকি নিছক দুর্ঘটনা-তদন্তে সবদিক বিবেচনা করে প্রতিবেদন দেয়া হবে। রোববার (১২ মার্চ) এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা।

তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন- ঘটনার তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

এদিকে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার দিন জড়িত সন্দেহে এক রোহিঙ্গাকে আটকের কথা জানিয়েছিলেন। তবে আটক ওই রোহিঙ্গা সম্পর্কে কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং উখিয়া থানা পুলিশের কাছেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

আরও পড়ুন: ‘নাশকতার আগুনে’ পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২ হাজার ঘর, আটক ১

অন্যদিকে আশ্রয়শিবিরে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পটির সহায়তা কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম।

আরসা সদস্যরাই আগুন দিয়েছে দাবি রোহিঙ্গাদের
গত রোববার দুপুর আড়াইটায় উখিয়া উপজেলার বালুখালী-১১ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ডি-ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শিবিরের কয়েকটি ব্লকসহ আশপাশের কয়েকটি শিবিরেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

রোহিঙ্গারা দাবি করেছেন, আগুনের ঘটনা আসলে আধিপত্য বিস্তারের জের। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসা’ এর সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এ আগুন লাগিয়েছে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি

ঘটনার সময় আশ্রয়শিবিরের সি-ব্লকের বাসিন্দা জহুরা বেগম (৪৮) নিজের ঘরে অবস্থান করছিলেন।

জহুরা বলেন, ‘দুপুরে হঠাৎ করে চারদিকে আগুন আগুন বলে শোর-চিৎকার শুনতে পাই। এ সময় পাশের ডি-ব্লকের বসতঘরগুলোতে আগুন দেখতে পাই। মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই বি-ব্লকে আগুনে ঘরসহ নানা স্থাপনা পুড়তে দেখি। পরে সি-ব্লকের বিভিন্ন ঘরে অপরিচিত কয়েকজন লোককে আগুন লাগিয়ে হৈ-হুল্লোড়ের মধ্যে ঢুকে পালিয়ে যেতে দেখি।’

আগুনে সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগী এ নারী আরও বলেন, ‘যারা আগুন লাগিয়েছে তারা ক্যাম্পের বাসিন্দা নয়; তারা বহিরাগত।’

ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং আরসার সন্ত্রাসীরাই আগুন লাগিয়েছে বলে দাবি করেন বালুখালী-১১ নম্বর আশ্রয়শিবিরের সি-ব্লকের বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ। সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের কাছে আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন নাশকতা কি-না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইলিয়াছ বলেন, ‘সি-ব্লকের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, আরসার সদস্য এহসানসহ ৩-৪ জন লোক আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় তারা সাধারণ রোহিঙ্গাদের অস্ত্র প্রদর্শন করেও ভয় দেখায়। পরে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে আব্দুল হামিদের ঘরে তারা আগুন লাগিয়ে দেয়। যদি ঘটনাটি দুর্ঘটনা হতো, তাহলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একইসঙ্গে আগুন লাগার ঘটনা ঘটতো না।’

মূলত: মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা ও আরএসও’র মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আগুন লাগানোর এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াছ।

আগুনে ক্ষয়ক্ষতি
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে দুই হাজারের বেশি ঘর ও ১২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে আইওএম বলছে- আগুনে দুই হাজার ৮০৫টি ঘর ও স্থাপনা এবং ১৫ হাজার ৯২৫ জন রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিরতা, খুন-সংঘাত যেন নিত্যদিন!

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সোমবার (৬ মার্চ) অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির কাজ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত প্রতিবেদন আকারে তৈরির পর রোববারের মধ্যে জমা দেয়া হবে। তদন্তে সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ চলছে। ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট যাদের সঙ্গে কথা বলা দরকার তাদের বক্তব্য নেয়া হচ্ছে।’

ঘটনাটি পরিকল্পিত ও আরসার সদস্যরা আগুন লাগিয়েছে- রোহিঙ্গাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা; তদন্তে কোনো দিক বাদ যাচ্ছে না। তদন্তকাজ শেষ হলে আগুনের সূত্রপাতের পাশাপাশি নেপথ্যের রহস্যও উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

 

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির

ঘটনার পর আটক ব্যক্তির তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
এদিকে ঘটনার দিন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন আশ্রয়শিবিরে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকরা এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করে। এ সময় আটক যুবকের কাছ থেকে আগুন লাগানোর কাজে ব্যবহৃত গ্যাস লাইটারও উদ্ধার করা হয়। পরে তারা ওই রোহিঙ্গাকে এপিবিএন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।’

আরও পড়ুন: উখিয়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাকে গুলি করে হত্যা

আরআরআরসি মিজানুর রহমানের কাছে আটক রোহিঙ্গা যুবকের কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে, তিনি দায়িত্বরত এপিবিএন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

তবে এ বিষয়ে ৮-এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যুবক আটক হওয়ার বিষয়ে এপিবিএন অবহিত নয়। কোনো সংস্থার সংশ্লিষ্ট কেউ ধৃত কাউকে এপিবিএনের কাছে হস্তান্তর করেনি।’

উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীও একই ধরনের কথা বলেন।

পুনর্বাসনের আওতায় ক্ষতিগ্রস্তরা
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনসহ সার্বিক সহায়তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএমের জনসংযোগ কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের জন্য ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের সহায়তা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

তারেক মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে আইওএম ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও জরুরি সহায়তা প্রদান করে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা মতে পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। দেয়া হয়েছে নানা সহায়তা।’

‘বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৮০ হাজার ৫০০ লিটার সুপেয় পানি, দুই হাজার ৫১৪টি পরিবারকে ইমার্জেন্সি হাইজিন কিট, দুই হাজার ৫১৪টি পরিবারকে নন-ফুড আইটেম এবং দুই হাজার ৫৬২টি পরিবারকে ইমার্জেন্সি শেল্টার কিট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দলের মাধ্যমে ৬৬০ জন রোহিঙ্গাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ৪৬৪টি নলকূপের মেরামত কাজ শেষ করা হয়েছে ‘ যোগ করেন তিনি।

পাশাপাশি আইওএমের প্রোটেকশন, সাইট ম্যানেজমেন্ট ও সাইট ডেভেলপমেন্ট, ওয়াশ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা টিমগুলোও সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *