Skip to content

‘এখনকার শিশুরা ফার্মের মুরগির মতো’ | বাংলাদেশ

‘এখনকার শিশুরা ফার্মের মুরগির মতো’ | বাংলাদেশ

<![CDATA[

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, এ যুগের শিশুদের স্বাস্থ্যের অবস্থা হয়েছে ফার্মের মুরগির মতো। একটু এদিক ওদিক হলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা শৈশবে এতটা নাজুক ছিলাম না; বর্তমানের শিশুরা যতটা নাজুক। একদিন জানালা খুলে ঘুমালে তাদের ঠান্ডা লেগে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই বলেছেন যে বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের অবস্থা হয়েছে ব্রয়লার মুরগির মতো।’

 

নিরাপদ খাদ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর আমাদের বড় অর্জন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া। এখন আর ক্ষুধা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে না। ভবিষ্যতের জন্য আমাদের ভাবনা হওয়া উচিত নিরাপদ খাদ্য নিয়ে। নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা না করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবন অনিশ্চিত।’

 

সফিকুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য ধান। অথচ কদিন আগে ধানের মধ্যে এমন কিছু উপাদান পাওয়া গেছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কৃষক যে মাটিতে ফসল ফলাচ্ছেন সেই মাটি দূষিত, যেখান থেকে সেচ দিচ্ছেন সেই পানিও দূষিত। এতে করে বিভিন্নভাবে নানা রকমের মাইক্রোপ্লাস্টিক অজান্তেই সাধারণ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক ক্ষতি করছে।’

 

আরও পড়ুন: মিষ্টি খাওয়া ছাড়াও যেসব কারণে ডায়াবেটিস হয়

 

অনুষ্ঠানে হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের সদস্য আতাউর রহমান বলেন, ‘রাজধানী ঢাকা শহরে বেশিরভাগ সবজি আসে ধামরাই ও সাভার এলাকা থেকে। এসব এলাকায় শিল্পকারখানা থাকায় সেখানকার মাটি স্বভাবতই দূষিত। দূষিত মাটিতে চাষ করা শাক-সবজি খেয়ে দিনকে দিন নগরের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ঢাকার মানুষ শারীরিক সুস্থতার জন্য যেসব সবুজ শাক-সবজি খাচ্ছে, তা আদতেও শরীরের জন্য নিরাপদ না।’

 

আতাউর বলেন, ‘মানুষ ভাবে অনিরাপদ খাবার মানে ফরমালিন দেয়া খাবার। কিন্তু অনেকেই জানেন না দূষিত মাটিতে জন্ম নেয়া শস্য ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য ফরমালিনের চেয়েও মারাত্মক। প্রতিনিয়ত মাটির ভেতরের নানা ক্ষুদ্র দূষণ কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মানুষকে অসুস্থ করে দিচ্ছে।’

 

নিরাপদ খাদ্য নিয়ে মানুষ এখনও অনেক বেশি অসেচতন মন্তব্য করেে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বাজার থেকে ডিম কিনে এনে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। তারা জানেনই না আধোয়া ডিম ফ্রিজে রাখলে তা ফ্রিজে থাকা অন্যান্য খাবারে জীবাণু ছড়াতে পারে।’ 

 

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় উন্নয়নের কথা বলি। মেট্রোরেল কিংবা পদ্মা সেতুর মতো উন্নয়ন কোনো কাজে আসবে না যদি না আমরা উন্নত ও নিরাপদ মানবজীবন গড়ে তুলতে পারি। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্মার্ট মানুষ দরকার, আর স্মার্ট মানুষের দেশে খাদ্য নিরাপদ হবে না এটা মেনে নেয়া যায় না।’

 

আরও পড়ুন: ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে করণীয়

 

প্রসঙ্গত, ঢাকার ৯০ শতাংশ স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবারই অনিরাপদ। এসব খাবারে ই-কোলাই ও সালমেনেলার মতো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া গেছে- এমন তথ্যই উঠে এসেছে সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৭ সালের নভেম্বরে পরিচালিত খাদ্যদ্রব্যে রাসায়নিক দূষণ ও জীবাণু সংক্রমণ বিষয়ক এক সমীক্ষায়।

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র পদক্ষেপের যুগ্ম ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান সিদ্দিক।

 

তিনি জানান, মুখরোচক খাবার বলতেই মাথায় আসে ‘স্ট্রিট ফুড,’ যা সাধারণত রাস্তার পাশে তৈরি, বিক্রি ও খাওয়া হয়। নগরের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ (নারী ৬০ শতাংশ এবং পুরুষ ৪০ শতাংশ) দিনে অন্তত একবার স্ট্রিট ফুড খেয়ে থাকেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৯০ শতাংশ স্ট্রিট ফুডই অনিরাপদ।
 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *