Skip to content

ওপেনহেইমারের অ্যাটম বোমার চেয়ে কতটা ধ্বংসাত্মক আজকের পরমাণু অস্ত্র? | আন্তর্জাতিক

ওপেনহেইমারের অ্যাটম বোমার চেয়ে কতটা ধ্বংসাত্মক আজকের পরমাণু অস্ত্র? | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

প্রায় দেড় বছর ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চরম সংঘাত চলছে। সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার কারণে বাড়ছে পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইতিহাস নিয়ে নির্মিত হলিউডের একটি সিনেমা নিয়ে বেশ হইচই শুরু হয়েছে।

সিনেমাটির নাম ‘ওপেনহেইমার’। পরমাণু বোমার জনক জে রবার্ট ওপেনহেইমারকে নিয়ে এই সিনেমা। নির্মাণ করেছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমায় পরমাণু বোমা তৈরি ও এর উৎক্ষেপণের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।

 

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পরমাণু বোমা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রথম পরমাণু বোমা তৈরির প্রকল্পে হাত দেয় দেশটি। ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’ নামের সেই প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী হিসেবে সবচেয়ে গণবিধ্বংসী অস্ত্র অ্যাটম বোমা আবিষ্কার করেন জে রবার্ট ওপেনহেইমার। এজন্য তাকে অ্যাটম বোমার জনক বলা হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পর আরও অন্তত দেশ ৮টি দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে। পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ও আরও শক্তিশালী অস্ত্র যোগ হচ্ছে। আজকের দিনের এসব পরমাণু অস্ত্রগুলো ওপেনহেইমারের অ্যাটম বোমা থেকে অন্তত ৮০ গুণ শক্তিশালী।

 

কোন দেশের কাছে সবচেয়ে বেশি পরমাণু অস্ত্র?

 

আজকের বিশ্বে একটি দেশের সামরিক শক্তি কতটুকু, তার অন্যতম মানদণ্ড হলো; সে দেশের অস্ত্রাগারে পরমাণু অস্ত্র আছে কি না। পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যাকেও শক্তির আরেক মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্বে মোট নয়টি দেশের কাছে গণবিধ্বংসী এই অস্ত্র রয়েছে। আর দেশগুলোর মোট বোমার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার।

 

পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল ও উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে পরমাণু অস্ত্র মজুদে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

 

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র আগেই ধ্বংস করেছে। তারপরও বর্তমানে বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের ৯০ শতাংশ এই দেশ দুটির হাতে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র রয়েছে রাশিয়ার হাতে।

 

আরও পড়ুন: ইরান কি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে?

 

পরমাণু অস্ত্রের হিসাব সবসময় অনুমানভিত্তিক হয়ে থাকে। তবে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের তথ্য অনুসারে, রাশিয়ার হাতে ৫ হাজার ৯৭৭টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে।

 

এর মধ্যে ১ হাজার ৫৮৮টি বর্তমানে মোতায়েন করা আছে। অর্থাৎ এই অস্ত্রগুলো হয় আন্তঃমহাদেশীযয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে (আইসিবিএম) যুক্ত রয়েছে অথবা ভারী বোমারু বিমানের ঘাঁটিগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৪২৮টি। সংখ্যার দিক থেকে দেশটিতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক অস্ত্র আছে। এরপরই রয়েছে চীন। এশিয়ার এই দেশটির কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে ৪০০টির বেশি। চীন বর্তমানে তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার আরও বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে।

 

এ ছাড়া ফ্রান্সের কাছে ২৯০টি, যুক্তরাজ্যের কাছে ২২৫টি, ভারতের ১৬০টি, পাকিস্তানের ১০০-১২০টি, ইসরাইলের ৯০টি ও উত্তর কোরিয়ার কাছে ২০টি পরমাণু অস্ত্র আছে বলে মনে করা হয়। কেউ কেউ নতুন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র আরও বাড়ানোর নির্দেশ কিমের

 

একদিকে যেমন পরমাণু অস্ত্র বাড়ছে, অন্যদিকে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যেও উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

 

এদিকে তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কও ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বহুদিনের। ভারত ও চীন দ্বন্দ্বও অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকিও ‘বাস্তব’ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

আজকের পরমাণু অস্ত্র ওপেনহেইমার অ্যাটম বোমার চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী

 

জে রবার্ট ওপেনহাইমার যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপন ‘ম্যানহাটন প্রজেক্টে’র অংশ হিসেবে প্রথম পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আর এখন থেকে ৭৮ বছর আগে প্রথম পরমাণু বোমার ধ্বংসলীলা দেখে বিশ্ব।

 

ওপেনহেইমারের তৈরি অস্ত্রগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। যার ফলে ওই শহর দুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

 

ধারণা করা হয়, হিরোশিমা শহরের সাড়ে তিন লাখ মানুষের মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ কেবল বোমার বিস্ফোরণেই মারা যায়। আর নাগাসাকিতে মারা যায় ৭৪ হাজার মানুষ। কিন্তু পরমাণু বোমার তেজস্ক্রিয়তার শিকার হয়ে পরবর্তী সপ্তাহ, মাস ও বছরগুলিতে আরও বহু মানুষ মারা গিয়েছিল।

 

এই বোমার শিকার হয়েও যারা বেঁচে গিয়েছিলেন, তারা ‘হিবাকুশা’ বলে পরিচিত। তাদের ভয়ংকর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে বাকী জীবন বাঁচতে হয়েছে। হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু অস্ত্রের এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বিচলিত ও চমকে ওঠেন ওপেনহেইমার।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) মধ্যে শুরু হয় ঠাণ্ডা লড়াই। দুই দেশের মধ্যেই চলতে থাকে পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা। এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হন ওপেনহাইমার।

 

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে ১৪০০ পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র

 

১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে প্রথমবারের মতো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেই পরীক্ষার পরই ওপেনহেইমার বুঝতে পেরেছিলেন যে ‘পৃথিবী আর আগে মতো থাকবে না’। আর নিজের এই ধ্বংসাত্মক কর্মের জন্য আপসোসও করেছিলেন তিনি।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর পর হাইড্রোজেন বোমা নামে আরও বড় ও শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ওপেনহেইমার সর্বশক্তি দিয়ে এর বিরোধিতার করেন। কিন্তু সেই বিরোধিতায় আর কাজ হয়নি। হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পর অন্যান্য দেশও এই হাইড্রোজেন বোমা বানিয়েছে এবং পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে।

 

এই ধরনের (হাইড্রোজেন বোমা) পরমাণু অস্ত্র হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা বোমার চেয়ে ৮০ গুণের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। ‘লিটল বয়’ ও ‘ফ্যাটম্যান’র আঘাতে জাপানের দুটি শহর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আজকের পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়। 

সূত্র: ইউএসএ টুডে, ফোর্বেস ও আল জাজিরা। 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *