Skip to content

কদর বাড়ছে প্রিমিয়াম ফ্ল্যাটের, স্বপ্ন মলিন মধ্যবিত্তদের | বাণিজ্য

কদর বাড়ছে প্রিমিয়াম ফ্ল্যাটের, স্বপ্ন মলিন মধ্যবিত্তদের | বাণিজ্য

<![CDATA[

প্রতি বছরের মতো এবারও বেশ বর্ণাঢ্যভাবেই উদযাপিত হচ্ছে দেশের আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন বাংলাদেশ বা রিহ্যাব ফেয়ার ২০২২। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) ছিলো মেলার চতুর্থদিন।

এবারের মেলায় ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮১টি স্টল রয়েছে। রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মেলায় অংশ নিয়েছে বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। শনিবার ছুটির দিন হওয়ার পরও মানুষের উপস্থিতি ছিলো কিছুটা কম। কারণ হিসেবে টানা তিনদিনের ছুটিতে রাজধানীর বিপুল সংখ্যক বাসিন্দার ঢাকা ছাড়ার বিষয়টিকে তুলে ধরলেন আয়োজকরা।

মেলায় দৃষ্টিনন্দন স্টল সাজিয়ে আগত দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরছেন আবাসন কোম্পানিগুলোর কর্মীরা। ফ্ল্যাট এবং প্লট সংশ্লিষ্ট ক্রেতা দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি মেলায় স্পট বুকিংয়ের ওপরও দেয়া হচ্ছে নানা ছাড়।

তবে ফ্ল্যাটের দাম এবার গত বছরের থেকে অনেকটাই বেশি বলে জানালেন আগত দর্শনার্থীরা।

মিরপুর থেকে আসা আকিফ নামের এক দর্শনার্থী জানালেন, তারা একটু বড় ফ্ল্যাট কিনতে চান উত্তরার দিকে। কিন্তু ফ্ল্যাটের বাজার চড়া। বেশিরভাগই কোম্পানিই আগের বছরের থেকে বেশি দাম হাঁকছে তাদের ফ্ল্যাটের জন্য।

এবারের মেলায় মধ্যবিত্ত বা চাকরিজীবীদের জন্য তেমন বিশেষ কিছুই নেই বলে জানালেন মোহাম্মদপুর থেকে আসা আফরোজা বেগম নামের এক দর্শনার্থী। তিনি জানান, কোটি টাকার নিচে তিন রুমের কোনো ফ্ল্যাট নেই। বিশেষ করে একটু সুনাম আছে কিংবা পুরনো কোম্পানিগুলোর ফ্ল্যাটের দাম প্রতি স্কয়ার ফুটে আট হাজার টাকার ওপরে। সে হিসেবে ১২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের দাম চলে যায় কোটি টাকার ওপর। এ পরিস্থিতিতে তাদের মতন চাকরিজীবী পরিবারগুলোর ফ্ল্যাট কেনার বিষয়টি স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয় বলে আক্ষেপ করেন তিনি। মধ্যবিত্তরা যেন ফ্ল্যাট কিনতে পারেন সে ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানালেন তিনি।

আরও পড়ুন: আশাবাদী আবাসন ব্যবসায়ীরা, প্রথম দিনেই মিলছে সাড়া

এ ব্যাপারে এক আবাসন কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, আসলেই চাকরিজীবী কিংবা মধ্যবিত্তদের জন্য এখনকার বাজার অনুযায়ী ফ্ল্যাট কেনা একটু কষ্ট সাধ্যই। পরিবারের সবাইকে নিয়ে থাকা যায় এমন আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের দাম পড়ে যায় কোটি টাকার ওপর। এ কারণে ছোট ফ্ল্যাট কেনার দিকে ঝুঁকছেন অনেক গ্রাহক। তাদের কথা বিবেচনা করে দুই রুম বিশিষ্ট কিংবা স্টুডিও টাইপের ফ্ল্যাট বিক্রি করছে অনেক কোম্পানি।

ফ্ল্যাটের দাম বেশি হওয়ার কারণ কি?

এই প্রশ্নের জবাবে এলসি সঙ্কট এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা জানালেন আবাসন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা। তাদের মতে নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। সে হিসেবে ফ্ল্যাটের দামের ক্ষেত্রে শুধু সংযোজন হয়েছে কাঁচামালের বাড়তি দাম। 

লাভও আগের থেকে কমে গেছে উল্লেখ করে তাদের দাবি, বরং আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম লাভে ফ্ল্যাট বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বেইলি রোড, ইস্কাটন কিংবা ধানমণ্ডির মতো রাজধানীর প্রাইম লোকেশনগুলোতে ফ্ল্যাট না পাওয়া যাওয়ার কথা জানালেন রাজধানীর ওয়ারী থেকে আসা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি ফ্ল্যাটের দাম আগের বছরের থেকে বেশি হওয়ার কথা জানান তিনিও।

এবারের মেলায় একটু প্রিমিয়াম টাইপের ফ্ল্যাট নিয়ে এসেছে র‌্যাংগস প্রোপার্টিজ লিমিটেড। এছাড়া রাজধানী জুড়ে রয়েছে তাদের বিভিন্ন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্প।

মেলায় র‌্যাংগসের স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুইমিংপুল ও জিমনেসিয়াম সমৃদ্ধ প্রিমিয়াম ফ্ল্যাট বিক্রি করছেন তারা। শুধু অভিজাত এলাকাগুলোতেই নয় বরং বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়ছে রাজধানীর মিরপুর কিংবা খিলগাঁয়ের মতো এলাকাগুলোতেও। পাশাপাশি সব শ্রেণির গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখেই ফ্ল্যাট তৈরি করছেন তারা। ফ্ল্যাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে সব ধরনের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথা জানালেন র‌্যাংগস এর বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন: রিহ্যাব ফেয়ার শুরু ২১ ডিসেম্বর

দেশের অন্যতম পুরনো আবাসন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের স্টলে গিয়ে জানা গেল, পুরো ঢাকা শহরজুড়েই প্রায় সব ধরণের গ্রাহকদের জন্য আবাসন প্রকল্প রয়েছে তাদের। মেলায় ভিড় কিছুটা কম থাকার কারণ হিসেবে তিন দিনের ছুটির কথা জানালেন তারাও।

এবারের মেলায় শুধু ফ্ল্যাট কিংবা প্লট কেনার ব্যাপারে আগ্রহীরাই নয়, ভিড় করছেন চাকরিপ্রার্থীরাও। মেলায় আসার কারণ হিসেবে চাকরির সন্ধানের কথা জানালেন পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তেজগাঁও থেকে আসা তরুণ মিনহাজ উদ্দিন। জানালেন তিনি স্টলে স্টলে গিয়ে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে চাকরির কোনো সুযোগ আছে কি না তা জানার চেষ্টা করছেন। চাকরির কোনো অফার পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে হাসিমুখে ইতিবাচক সাড়া দিলেন তিনি। জানালেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভালো কোনো সংবাদ পাওয়ার আশাবাদ জানালেন তিনি।

মেলায় খাবারের দোকান বা কোনো ক্যাফে চোখে পড়েনি। চা নাস্তা কিংবা পানি খাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের দেয়ালের বাইরের টং দোকানই ভরসা।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া মেলা শেষ হবে রোববার (২৫ ডিসেম্বর)। মেট্রোরেল উদ্বোধন অনুষ্ঠান থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে রোববার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই শেষ হবে এবারের মেলা। তবে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মেলায় দর্শনার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় রয়েছে সিঙ্গেল এন্ট্রি ও মাল্টিপল এন্ট্রি এই দুই ধরনের টিকিট। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। আর মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা।

২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর ঢাকায় আবাসন মেলা আয়োজন করে রিহ্যাব। এ বছরেরটি ২২তম আয়োজন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২১ ডিসেম্বর দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *