Skip to content

কলাগাছ দিয়ে গুলশানের বাড়ির পয়োবর্জ্যের সংযোগ বন্ধ করলেন আতিক | বাংলাদেশ

কলাগাছ দিয়ে গুলশানের বাড়ির পয়োবর্জ্যের সংযোগ বন্ধ করলেন আতিক | বাংলাদেশ

<![CDATA[

নিয়মের তোয়াক্কা না করাই রাজধানীর গুলশানে কয়েকটি অভিজাত বাড়ির পয়োবর্জ্যের সংযোগ কলাগাছ ঢুকিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশান-২ নম্বরে অবৈধভাবে উন্মুক্ত নালায় পয়োবর্জ্য অপসারণ করায় দুটি বাসাবাড়ির সংযোগে কলাগাছের খণ্ডিত অংশ ঢুকিয়ে বন্ধ করে দেন তিনি। এছাড়া আরও কয়েকটি বাসাবাড়ির মালিককে এ নিয়ে সতর্ক করেন।

নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির পয়োবর্জ্যের সংযোগ দিতে হবে ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন নালায়। আর তা নাহলে বাড়ির মালিককে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে।

কিন্তু গুলশানের কয়েকটি বাড়ির মালিক এই দুটির কিছুই না করে পয়োবর্জ্য নিষ্কাশন করছিল সিটি করপোরেশনের খোলা নালায়। আর সেই নোংরা ও বিষাক্ত তরল বর্জ্য নালা থেকে খাল কিংবা লেকে গিয়ে পড়ছিল। পরে অভিযান চালিয়ে দুটি বাড়ির পয়োবর্জ্যের সংযোগেই কলাগাছের খণ্ডিত অংশ ঢুকিয়ে দিয়ে নালার বর্জ্যের প্রবাহ বন্ধ করে দেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃত্বে যারা আছেন, আমি অনুরোধ করব, অনতিবিলম্বে আপনারা সোসাইটিতে বসেন। এখন অনেক আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। এসব ভবনে আপনারা বিভিন্ন প্রয়োজনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেন। তাহলে কেন আপনারা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারবেন না?’

আরও পড়ুন: উন্নয়নে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন অন্যতম নিয়ামক: রাষ্ট্রপতি

মেয়র জানান, গুলশান সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা তার কাছে গিয়েছিলেন। তারা এ বিষয়ে তিন মাস সময় চেয়েছিলেন। তিনি ছয় মাস সময় দিয়েছেন।

মেয়র বলেন, ‘অভিযান আরও আগে সেপ্টেম্বর মাসে করার কথা ছিল। তখন না করে এই জানুয়ারিতে এসে করছি। কিন্তু জরিপ চালিয়ে যে ফল দেখলাম, পরিবর্তনের পরিমাণ অতি নগণ্য। তারা হয়তো মনে করেছিল, কিছুই হবে না।’

সবার উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ‘যেসব বাড়ি থেকে পয়োবর্জ্য সরাসরি খোলা নালায় সংযোগ দেয়া হয়েছে, আপনারা কি চান কলাগাছ ঢুকিয়ে দেয়ার পরে আপনাদের বাড়িতে তরল বর্জ্য উপচে পড়ুক? যে কয়টা বাড়িতে আমি কলাগাছ ঢুকিয়েছি, ওরা কিন্তু পাগল হয়ে গেছে।’

নিজের বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করেছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নগরের মেয়র হিসেবে আমাকেও প্রশ্ন করতে পারেন। সব সাংবাদিককে আমার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ জানাই। উত্তরাতে আমার বাসায় আসুন, আমার বাসাতেও আগে পয়োবর্জ্য সরাসরি নালায় যেত। এখন বাড়ির পার্কিংয়ের জায়গার নিচে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসিয়েছি। এটি জাপানের জোকোসো মডেলের। মাত্র দুই সপ্তাহ গাড়িগুলো বাইরে রাখতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁস: বিমানের আরও ১ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

মেয়র আরও বলেন, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসানোয় যে পানি এখন অবমুক্ত হচ্ছে, সেটি জীববৈচিত্র্যের জন্য ভালো। সবাই যার যার বাড়িতে এটি স্থাপন করতে পারেন। এতে লেক–খাল সুন্দর ও পরিষ্কার থাকবে। সেখানে মাছ চাষ করা যাবে। বাচ্চারা নৌকা চালাতে পারবে। সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি হবে।

ওয়াসা যে কাজের জন্য নগরবাসীর কাছ থেকে বিল নিচ্ছে, সে সেবা তারা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জরিপ করার আহ্বান জানান মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বিল নিলে সেবাও দিতে হবে। আপনারা বিল নেন কিন্তু সেবা দেন না, এতেই এই অবস্থা। বিল নিচ্ছেন আপনারা (ওয়াসা), তরল পয়োবর্জ্য যাচ্ছে করপোরেশনের নালায়, খালে ও লেকে।

সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বনানী, বারিধারা, নিকেতন এবং গুলশান পূর্ব ও পশ্চিমের ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়িতে জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টি বাড়িতেই পয়োবর্জ্য সরাসরি উন্মুক্ত নালা, খাল কিংবা লেকে ফেলা হচ্ছে। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়োবর্জ্য সরাসরি নালায় মিশছে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *