Skip to content

চীনা ভ্রমণকারীদের আগমনে এশিয়ার পর্যটনে সুবাতাস | আন্তর্জাতিক

চীনা ভ্রমণকারীদের আগমনে এশিয়ার পর্যটনে সুবাতাস | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

করোনা মহামারির কারণে প্রায় তিন বছর বন্ধ রাখার পর ফের নিজেদের সীমান্ত খুলে দিয়েছে চীন। ফলে আবারও দেশের বাইরে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘরবন্দি চীনারা। এত পর্যটনে আশার আলো দেখছে চীনের প্রতিবেশী দেশগুলো। চীনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার কারণে এশীয় অঞ্চলে পর্যটন খাতে আবারো গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়াসহচীনা পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা চীনের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার বিষয়টি উদযাপন করছে। এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের ব্যবসা পুনরুদ্ধারের আশা দেখছেন তারা। যদিও চীনে নতুন করে বাড়তে থাকা কোভিড সংক্রমণ কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

পর্যটনে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে চীনা ভ্রমণকারীরা। তিন বছর আগে দেয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পূর্বে চীনা ভ্রমণকারীদের কেন্দ্র করে বছরে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বাণিজ্য হতো বিশ্বজুড়ে। তবে কোভিডের কারণে চীন তার নাগরিকদের দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিলে চীনা পর্যটক নির্ভর ব্যবসাগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে। আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এশিয়ার পর্যটননির্ভর অর্থনীতিগুলো।

চীনা পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অনেক পর্যটন নির্ভর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। কাজ হারায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোর লাখ লাখ কর্মী। চীন নিজের নাগরিকদের জন্য তার সীমান্ত খুলে দেয়ায় এখন নতুন করে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: চীনের ৯০ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত

তবে চীনে ফের ব্যাপক আকারে সংক্রমণ দেখা দেয়ায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এই খাতে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ চীনাদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তাদের পথ অনুসরণ করে এশীয় দেশগুলো চীনা পর্যটক প্রবেশের ক্ষেত্রে আবারো বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে চীনা নাগরিকদের প্রবেশে বেশকিছু বিধি নিষেধ আরোপ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

তবে দেশগুলোর পর্যটন সংশ্লিষ্টরা খুব একটা আমলে নিচ্ছে না এই চীনের নতুন এই কোভিড সংক্রমণকে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে মোটরবাইকে করে ফুড ডেলিভারির কাজ করা চোই ডায়ে সাং রয়টার্সকে বলেন, আমি কোভিড নিয়ে আতঙ্কিত নই। অর্থনৈতিকভাবে আমাদের কঠিন সময় গেছে। বরং আমি চাই চীনারা আরও বেশি করে আমাদের দেশে আসুক।

থাইল্যান্ডের পর্যটন খাতও অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে চীনা পর্যটকদের জন্য। এমনকি পর্যটন ব্যবসায়ীদের চাপে চীনা পর্যটকদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে থাই সরকার। এর আগে চীনে কোভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে চীনা নাগরিকদের থাইল্যান্ডে প্রবেশে কোভিড টিকা গ্রহণের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করেছিল ব্যাংকক। তবে ব্যবসায়ীদের চাপে তড়িঘড়ি করে সে সিদ্ধান্ত বাতিলে বাধ্য হয় সরকার।

চীনের সীমান্ত পুনরায় খোলার একদিন পরই থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে চীনা পর্যটকদের ব্যাংককে স্বাগত জানান। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় থাইল্যান্ডে চীনা পর্যটকদের ঢল নামার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৯ সালে থাইল্যান্ডে ভ্রমণ করা ৪ কোটি পর্যটকদের এক তৃতীয়াংশই ছিল চীনারা।

আরও পড়ুন: মিজোরাম সীমান্তে মিয়ানমারের বিমান হামলা

থাই ট্যুর বাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওয়াসুচে সোফনসাটিয়েন রয়টার্সকে বলেন, এখানকার ট্যুর বাস অপারেটররা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের যানবাহনগুলো বসিয়ে রেখেছেন। তবে এখন তারা ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে আশাবাদী। চীন সীমান্ত খুলে দেয়ার পর তারা আবারো পর্যটকের ভিড় সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চীনা পর্যটকদের আগমনে খুশি ব্যাংককের স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারাও। এক স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা বলেন, আমরা চীনা পর্যটকদের ব্যাপকভাবে মিস করেছি। তারা আমাদের খাবার পছন্দ করে। তাই তারা তাড়াতাড়ি থাইল্যান্ড আসুক আমরা এটাই চাই।

থাইল্যান্ডের এক ট্যাক্সি ড্রাইভার বলেন, গত তিন বছরে মহামারির সময় আসলে কোনো পর্যটকই ছিল না। আমার আয়ও অনেক কমে গিয়েছিল। আমি খুশি যে চীনা পর্যটকরা আবার ফিরে আসছে। এখন অর্থনীতি আরও ভালো হবে।

ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রিপ ডটকম গ্রুপের ডাটা অনুসারে, বিধিনিষেধ শিথিলের পর চীন থেকে এশিয়াজুড়ে ভ্রমণের অনুসন্ধান ৮৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। থাইল্যান্ড, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ম্যাকাও, সিঙ্গাপুর, হংকং ও তাইওয়ান সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান করা গন্তব্য ছিল।

চীনা পর্যটকদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রও। দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বালির রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার কাদেক দোদিক ইন্দ্র প্রাতামা রয়টার্সকে বলেন, আমাদের রেস্টুরেন্টকে চীনা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আমরা সবচেয়ে সেরা সেবা এবং সবচেয়ে ভালো মানের খাবারের আয়োজন করেছি। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু চীনা পর্যটক আমাদের এখানে এসেছে।
 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *