Skip to content

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত? | আন্তর্জাতিক

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত? | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের দুই দিনের সফরের মধ্যদিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক সম্পর্কের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিপক্ষ চীনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও বিবৃতি তেমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্লিঙ্কেনের সফরটি আরও পাঁচ মাস আগেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় একটি সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর বেলুন গুলি করে ভূপাতিত করার প্রেক্ষিতে উভয় দেশের মধ্যে সৃষ্ট বাগযুদ্ধের মধ্যে সফর স্থগিত করা হয়।

 

গত রোরবার (১৮ জুন) বহুল আলোচিত চীন সফর শুরু করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন। এদিন তাকে দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে অভ্যর্থনা জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিন গ্যাং। দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউস একটি বিলাসবহুল ভবন যেখানে সাধারণত সফরকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের থাকতে দেয়া হয়।

 

সোমবার (১৯ জুন) ঐতিহাসিক এই সফর শেষ হয়। এই সফরে ব্লিঙ্কেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিবিসির প্রতিবেদন মতে, ব্লিঙ্কেনের দুই দিনের বেইজিং সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজেদের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

আরও পড়ুন: চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের বৈঠক, অগ্রগতির আশা কম

 

ব্লিঙ্কেন সোমবার (১৯ জুন) চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর জিনপিং বলেন, দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে ব্লিঙ্কেন জোর দিয়ে বলেন, ‘উভয় পক্ষই আরও আলোচনার জন্য প্রস্তুত’। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন যে, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও বড় মতপার্থক্য রয়েছে’।

 

বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের গ্রেট হল অব পিপলে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের ৩৫ মিনিট কথা হয়। এরপর এক যৌথ বিবৃতিতে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘আমি যে বিষয়টাতে জোর দিয়েছি সেটা হলো সিনিয়র স্তরে একটা টেকসই যোগাযোগই হলো দায়িত্বশীলতার সাথে মতপার্থক্যগুলো কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে ভাল উপায়। একই সঙ্গে এটা নিশ্চিত করতে চেয়েছি যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাতে সংঘাতের দিকে না গড়ায়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ চীনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও একই প্রতিশ্রুতির কথা শুনেছি। আমরা উভয়েই আমাদের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত।’

 

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্ব চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটা স্থিতিশীল সম্পর্ক চায়। শত্রুতার মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোন সমস্যার সমাধান হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সফর একটা ইতিবাচক পদক্ষে। তবে দুই দেশের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধানে এখনও অনেক দূর যেতে হবে।

 

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ, এরপর তাইওয়ানের ব্যাপারে চীনের কঠোর অবস্থান ও এরপর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় ‘গুপ্তচর’ বেলুন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক তলানি ঠেকে। তলানি থেকে সম্পর্কের পারদ ওপরে ওঠানোর লক্ষ্যেই ব্লিঙ্কেনের এই বেইজিং সফর। যার দিকে বিশ্বের অনেকেরই নজরই ছিল।  

 

আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেন চীনে যাচ্ছেন?

 

চীনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, আমেরিকার ফেন্টানিল মাদক সমস্যা থেকে শুরু করে তাইওয়ান সংকট এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে শিনজিয়াং, তিব্বত ও হংকংয়ে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদিও এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেই মত দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। 

 

যেমনটা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। বিবৃতি মতে, ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘উভয় পক্ষ বেশ অগ্রগতি করেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এটা খুবই ভাল ব্যাপার।’

 

বিবিসির প্রতিবেদন মতে, চীনা প্রেসিডেন্টর সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের বৈঠকের বিষয়টি সফরসূচিতে ছিল না। বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এ সম্পর্কে ঘোষণা দেয়া হয়।

 

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়টির মধ্যদিয়ে সম্পর্কোন্নয়নে উভয় পক্ষের বিশেষ করে বেইজিংয়ের আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত না হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গলদ হিসেবেই বিবেচনা করা হত বলে মনে করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: তাইওয়ানের স্বাধীনতা সমর্থন করে না যুক্তরাষ্ট্র: ব্লিঙ্কেন

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র তাইওয়ান। বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করে। কিন্তু তাইওয়ানের সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যেটাকে বেইজিং মোটেও ভাল চোখে দেখে না।

 

ব্লিঙ্কেনের বেইজিং সফরকালেও বিষয়টি সামনে এনেছেন চীনা কর্মকর্তারা। সোমবার (১৯ জুন) চীনা প্রেসিডেন্টের আগে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়।

 

বৈঠকে ওয়াং ই ব্লিঙ্কেনকে সরাসরিই বলেন, ‘তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপস স্বীকার করার সুযোগ নেই।’ ওয়াং ই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সত্যিকার অর্থেই এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন দিতে হবে এবং চীনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে। এ ছাড়া স্পষ্টভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে হবে।’

 

জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তাইওয়ান ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করেন ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। অর্থাৎ এক চীন নীতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান এখনো অটুট রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি না।’

 

ব্লিঙ্কেনের সফরে ইতিবাচক সম্পর্কের আরও একটি ইঙ্গিত হলো উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে রাজি হয়েছে। সফরের শুরুতে রোববার (১৮ জুন) দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

 

আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনকে ‘এক চীন নীতির’ প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে: বেইজিং

 

করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে ফ্লাইট বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হলেও ফ্লাইটের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

 

এছাড়া চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিন গ্যাংকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটন সফরে সম্মতও হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাট মিলার। তবে কবে নাগাদ এই সফর অনুষ্ঠিত হবে তা জানাননি তিনি। বলেছেন, উপযুক্ত সময়ে এই সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।

 

 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *