Skip to content

চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতনের পর হত্যা, ভিডিও ভাইরাল | বাংলাদেশ

চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতনের পর হত্যা, ভিডিও  ভাইরাল | বাংলাদেশ

<![CDATA[

নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলায় চুরির অপবাদে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর শাহাদাত হোসেন নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে নির্যাতনের এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের মাহুতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাতে সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য কাজ করছে পুলিশ। তবে রোববার (১৬ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

নিহত শাহাদাত হোসেন (২৬) উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের বকস আলী জমাদার বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

এদিকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে, প্রবাসীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মধ্যযুগীয় কায়দায় বেদম মারধর করে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় নির্মম নির্যাতন করা হয়। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে পানির পিপাসায় শাহাদাত হোসেন আর্তচিৎকার করলেও দেয়া হয়নি পানি। এভাবেই একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শাহদাত হোসেন। তার মৃতদেহটি ফেলে দেয়া হয় পার্শ্ববর্তী তিন রাস্তার পাশে খালি ভিটায়।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন পথচারী তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন এলাকায় শাহাদাতের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় নারী ইউপি সদস্যকে অবহিত করেন।  খবর পেয়ে সকাল ৯টায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সোনাইমুড়ী উপজেলা জয়াগ ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড  ইউপি সদস্য শামিম আলম জানান, লোকটি এলাকার চিহ্নিত ছিঁচকে চোর হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয়রা তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন। তবে তাকে মেরে ফেলা উচিত হয়নি।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে যুবক, নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় মা-বাবাকে

নোয়াখালী জেলা মানবাধিকার কমিশন সভাপতি জাহিদুর রহমান শামীম মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে দায়ী  হত্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন জানান, অসংখ্য রক্তাক্ত, জখমের চিহ্ন, হাঁটুতে ক্ষতচিহ্ন, বাঁ চোখে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েজন মিলে তাকে হত্যা করে ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার মাথাসহ কয়েকটি স্থানে গভীর ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখে এটি হত্যা বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখনো কোনো আসামি আটক না হলেও প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *