Skip to content

চ্যালেঞ্জিং হলেও যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বেনার নিউজ:

চ্যালেঞ্জিং হলেও বাংলাদেশ সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সোমবার মধ্যরাতে ঢাকায় চীনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন গ্যাংয়ের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতির সময় বিমানবন্দরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিন গ্যাং একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেছেন বলে নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস।

“নতুন বছরে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অগ্রগতির জন্য যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে,” বলা হয় ওয়েব সাইটে।

এতে আরও বলা হয়, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে এই বৈঠক শেষে রাত ২টা ৫০ মিনিটে আফ্রিকার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নতুন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর

ছিন গ্যাং এমন সময় বাংলাদেশ সফর করলেন যখন মার্কিন নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক এইলিন লউবেখার চার দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে একই সময়ে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে মোমেন বলেন, “এটি একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তাদের (আমেরিকা ও চীন) নিজস্ব সমস্যা থাকতে পারে। এটি তাদের মাথাব্যথা, আমাদের নয়। আমরা উভয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক উক্তি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একটি প্রস্তাবে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি।”

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন গ্যাংয়ের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। সুখের বিষয় যে, চীন আমাদের উন্নয়নের মহাসড়কে সম্পৃক্ত থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।”

মিয়ানমারের কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা দীর্ঘায়িত

ছিন গ্যাংয়ে সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মোমেন বলেন, “উনি বলেছেন মিয়ানমারে কিছু সমস্যা আছে। তাদের মধ্যে বেশ অসুবিধা আছে, সেই জন্য দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে তিনিও আশাবাদী।”

মোমেন বলেন, “আমরা বলেছি, এটা যদি তাড়াতাড়ি সমাধান না হয় তাহলে তারা উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে। তারা রাষ্ট্রহীন মানুষ, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সে জন্য তারা উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে যেতে পারে। তাতে এই পুরো অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত হবে। সে জন্য আপনারা বিশেষ উদ্যোগ নেন। যাতে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়। তিনি তাতে হ্যাঁ বলেছেন।”

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ ভ্রমণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছি। তার মানে এখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে; ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধা আছে। কেউ এগুলো হাতছাড়া করতে চায় না।”

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি চীনের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছেন। কারণ বাংলাদেশ চীন থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে যেখানে চীন বাংলাদেশ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারেরও কম মূল্যের পণ্য আমদানি করে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ পণ্য চীনে শুল্কমুক্ত কোটায় রপ্তানি সুবিধার সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।”

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচনের পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব

মার্কিন কর্মকর্তা লউবেখারের সফরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করেছে কি না জানতে চাইলে মোমেন বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন এক বছর পর অনুষ্ঠিত হবে এবং গত ১৪ বছরে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ ও সব দলের অংশগ্রহণে অভ্যন্তরীণভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব।”

মোমেন আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় কেউ সহিংসতা ঘটলে এটা দুর্ভাগ্যজনক হবে এবং এটাকে বাইরে থেকে সুপারিশ করে থামানো যাবে না। আমাদের এটা করতে হবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায় এবং সেজন্য একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন রয়েছে।”

তিনি বলেন, “দেশের জনগণ, সব দল; সরকারপক্ষ-বিরোধীপক্ষ আমরাই এই পরিবেশ উন্নত করতে পারি। অন্য কেউ হয়তো জিনিসটি ধরিয়ে দিতে পারে কিন্তু কাজটি আমাদেরই করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *