Skip to content

দুই প্রিন্সের `নজিরবিহীন’ দ্বন্দ্ব যেভাবে শুরু | আন্তর্জাতিক

দুই প্রিন্সের `নজিরবিহীন' দ্বন্দ্ব যেভাবে শুরু | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি। ব্রিটেনের বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের দুই ছেলে। তাদের মা প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা। গত কয়েক বছর ধরে দুই সহোদরের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব কারও অজানা নয়। সেই দ্বন্দ্বের কথা নতুন করে আবারও সামনে এসেছে। এ নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক-আলোচনা-সমালোচনা। শুধু পশ্চিমেই নয়, বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা চলছে বিশ্বজুড়েই।

দুই প্রিন্সের দ্বন্দ্ব সবশেষ যা জানা যাচ্ছে 
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সবশেষ খবর, বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ করেছেন ছোট ভাই প্রিন্স হ্যারি। তিনি বলেছেন, খ্যাতনামা মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে তার গায়ে হাত তুলেছিলেন উইলিয়াম। এমনকি তার জামার কলার চেপে ধরে ধাক্কা দিয়ে মেঝেয় ফেলে দিয়েছিলেন।

নিজের প্রকাশিতব্য স্মৃতিকথামূলক একটি বইয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন হ্যারি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনমতে, ‘স্পেয়ার’ নামে একটি স্মৃতিকথামূলক বই লিখেছেন প্রিন্স হ্যারি, যা ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার কথা। সেই বইতেই অগ্রজ প্রিন্স উইলিয়ামের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন হ্যারি।

হ্যারির লেখা ‘স্পেয়ার’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক বইটি আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে। বইটি ব্রিটিশ রাজপরিবার নিয়ে মারাত্মক হইচই ফেলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার আগে বইটির কিছু অংশ গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেছে।

বইটির নাম এসেছে রাজকীয় ও অভিজাত পরিমণ্ডলের একটি পুরোনো কথা থেকে। সেটি হলো প্রথম ছেলে সিংহাসন, ক্ষমতা ও সম্পদের উত্তরাধিকারী আর দ্বিতীয়জন হলেন অনেকটা গাড়ির অতিরিক্ত তথা ‘স্পেয়ার পার্টস’র মতো। যা কিছু ভাল তার সবই প্রথমে জন্ম যার তার কপালেই জোটে।

নামকরণের দিক থেকে হ্যারির ‘স্পেয়ার’কে একটি অসাধারণ বই বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের উত্তরাধিকারী দুই যুবরাজের মধ্যকার বিরোধের একটি চমকপ্রদ আখ্যান উঠে এসেছে।

৩৮ বছর বয়সী হ্যারি আত্মজীবনীতে লিখেছেন, অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করায় ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৯ সালে মেগানকে নিয়ে লন্ডনের প্রাসাদে রান্নাঘরে তাদের ঝগড়া হয়। প্রচণ্ড বাগবিতণ্ডে জড়ান দুই ভাই। সেই সময় মেগানকে উইলিয়াম ‘বাজে’, ‘বদরাগী’ ও ‘বেপরোয়া’ মেয়ে বলে উল্লেখ করেন।

একপর্যায়ে দুজনের বাগবিতণ্ডা সংঘাতে তথা হাতাহাতিতে রুপ নেয়। হ্যারির কথায়, ‘উইলিয়াম আমার কলার চেপে ধরেন, গলার চেইন ছিঁড়ে ফেলেন এবং…ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দেন।’ এতে তার পিঠে আঘাত লাগে বলে জানান হ্যারি। এ ঘটনার পর রাজপরিবার ছেড়ে হ্যারি-মেগান দম্পতি ২০২০ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান।

তবে হ্যারির এ বিস্ফোরক মন্তব্যের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি রাজপরিবার। প্রিন্স উইলিয়ামের সরকারি বাসভবন কেনসিংটন প্রাসাদ ও বাকিংহাম প্রাসাদ দু’জায়গা থেকেই বলা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবে না।

যেভাবে শুরু দ্বন্দ্ব

২০১৬ সালে মার্কিন খ্যাতনামা অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রিন্স হ্যারির। এর দুই বছর পর ২০১৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ে রাজকীয়ভাবে হলেও কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় মেগানকে ভালোভাবে নেয়নি রাজপরিবার।

খ্যাতনামা মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ে করার পর থেকেই রাজপরিবারের পাশাপাশি বড় ভাই উইলিয়ামের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হ্যারির। ফলে ২০২০ সালের মার্চে রাজপরিবার ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

দ্বন্দ্বের নেপথ্যে উত্তরাধিকার?

জীবনীকার রবার্ট ল্যাসি উইলিয়াম ও হ্যারির মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে একটি বই লিখেছেন। ‘উইলিয়াম অ্যান্ড হ্যারি :দ্য ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড দ্য ফিউডস’ শীর্ষক বইটি গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়। ল্যাসির মতে, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির দ্বন্দ্বটা অনেক গভীরে। মূলত উত্তরাধিকার নিয়ে তাদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব।

নিজের বইয়ের ব্যাপারে ল্যাসি জানান, দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন তিনি। আর সেটা করতে গিয়ে অনেক তথ্য তিনি পেয়েছেন। কিছু তথ্য পেয়ে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। দুই ভাইয়ের ছোটোবেলার সেই মধুর সম্পর্ক এখন তিক্ততায় রূপ নিয়েছে। বইয়ে দুই ভাইয়ের সম্পর্কে স্ত্রীরা কীভাবে প্রভাব ফেলেছেন, তা-ও উঠে এসেছে।

রবার্ট ল্যাসি জানান, যাদের মধ্যে ভাঙনের কথা কল্পনাও করা যেত না, তারা আজ অনেক দূরে অবস্থান করছেন। বইয়ে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল কেন রাজপরিবার ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে গেলেন, তা-ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ল্যাসি বলেন, ‘আমরা রাজপরিবারের মধ্যে অনেক দ্বন্দ্বের কথা জানি। কিন্তু বর্তমানে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বটা অনেক গভীরে। জানা গেছে, ২০১৭ সালে মেগান মার্কেলের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্কের কথা জানার পর উইলিয়ামের কিছু কথায় দ্বন্দ্ব শুরু হয়। হ্যারির বিয়ের পর এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। এতটাই তীব্র ছিল যে দুই ভাই একে অপরের সঙ্গে অনেক দিন কথাই বলেনি।’

রাজপরিবারের বিরুদ্ধে হ্যারির একের পর এক তোপ 

গত বছরের মার্চ মাসে মার্কিন টিভি উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রেকে একটি সাক্ষাৎকার দেন প্রিন্স হ্যারি। সেই সাক্ষাৎকারে রাজপরিবার ত্যাগ ও বড় ভাই সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। সে সময় হ্যারি জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অপমান অপদস্ত হওয়া থেকে বাঁচতে এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এরপর সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’-এ রাজপরিবারের বিরুদ্ধে তিনটি মারাত্মক অভিযোগ করেন হ্যারি। তার অভিযোগ, অন্যদের যেভাবে পরিবার আগলে রাখে, সংবাদমাধ্যম থেকে সুরক্ষা দেয়, মেগানের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাতেও কোনও লাভ হয়নি। তার দাবি, এর পিছনে বর্ণবৈষম্যের মতো কারণ থাকতে পারে।

পাশাপাশি বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন হ্যারি। বলেন, ছোট থেকেই ঠিকমতো বাবার সঙ্গ পাননি তিনি। বাড়িতে তার যতটা সময় কেটেছে, তার চেয়ে বেশি সময় কেটেছে বতসোয়ানায়। ফলে আফ্রিকার প্রতি তার একটা ভালোবাসা তৈরি হয়। আর তাতেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তার।

রাজপরিবারের পুরুষ সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। বলেন, তারা অনেক সময়ই নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে শুধুমাত্র পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে বিয়ে করেন। এমন কাউকে স্ত্রী হিসাবে বেছে নেন, যাদের সঙ্গে কোনো মনের মিলই নেই। অনেকেই মনে করছেন, এক্ষেত্রে তার আক্রমণের লক্ষ্য বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামই।

সোমবার (২ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল আইটিভিতে এক সাক্ষাৎকারে একই অভিযোগ করেন হ্যারি। বলেন, রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক এমন বিরূপ হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তারা (রাজপরিবার) কখনও সম্পর্ক জোড়া লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।’

সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেন, বাবা রাজা তৃতীয় চার্লস ও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামকে আগের মতো করে ‘ফিরে’ পেতে চান তিনি। তার কথায়, ‘আমি আসলে আমার বাবাকে ফেরত চাই, আমি আমার ভাইকে ফেরত চাই।’

হ্যারি ও মেগানকে ছাড় না দেয়ার হুশিয়ারি উইলিয়ামের 

ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকলেও এ নিয়ে এতদিন চুপই ছিলেন বড় ভাই উইলিয়াম। কিন্তু সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ শীর্ষক তথ্যচিত্রটি প্রচারের পর ক্ষেপে যান উইলিয়াম। ছোট ভাই হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগানকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। এবার রাজপরিবারের সম্মানহানি করার চেষ্টা করলে ছোট ভাই বলে আর ছাড় দেবেন না তিনি।

গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে রাজপ্রাসাদের সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম এক্সপ্রেস জানায়, উইলিয়াম বলেছেন, রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও অন্যান্য অসদাচরণের যে সব অভিযোগ হ্যারি তুলছেন এখন থেকে তার জবাব দেয়া হবে।

বাবা চার্লসের রাজ্যাভিষেক নিয়ে হ্যারি

গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু হয়। রানির মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন তার বড় ছেলে তৃতীয় চার্লস। রাজা চার্লসের পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে রয়েছেন বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম।

নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য সত্ত্বেও দাদি এলিজাবেথের মৃত্যুর পর দুই নাতিকে একসঙ্গেই দেখা যায়। একসঙ্গে দেখা যায় উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটন ও হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলকেও।

চলতি বছরের মে মাসে রাজা চার্লসের রাজ্যাভিষেক। তবে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি হ্যারি। চলতি সপ্তাহে ব্রিটেনের বেসরকারি টিভি চ্যানেল আইটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাবার রাজ্যাভিষেকে যোগ দেবেন কিনা সে বিষয়ে এখনই কথা দিতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘এখন ও মে মাসের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে এবং বিষয়টা রাজ পরিবারের ওপর নির্ভর করছে।’

 

 

 

 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *