Skip to content

দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনপদে অভাব যেন নিত্যসঙ্গী | বাংলাদেশ

দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনপদে অভাব যেন নিত্যসঙ্গী | বাংলাদেশ

<![CDATA[

খুলনার দাকোপ উপজেলার কালাবগী ঝুলন্তপাড়া ও ফকিরকোনা গ্রামের বাসিন্দাদের ভাগ্য আটকে আছে নদী আর সুন্দরবনের বেষ্টনীতে। গ্রামের ছোট ছোট জীর্ণঘরে অভাব যেন নিত্যসঙ্গী। সেখানে নেই যাতায়াতের রাস্তা, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন বা চিকিৎসাব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদী আর সুন্দরবনের বুকের ভেতর দুলতে থাকা ফকিরকোনা গ্রামে নৌকা থেকে নামার মতো কোনো ঘাট নেই। এক পাশে সুতারখালী নদী, পূর্ব ও দক্ষিণে সুন্দরবন, পশ্চিমে খরস্রোতা শিবসা ও সুন্দরবন।

২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে কালাবগী থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয় গ্রামটি। নদীভাঙনের হাত থেকে এক কিলোমিটারের মতো বেঁচে যাওয়া উঁচু জায়গাটুকুই গ্রামবাসীর একমাত্র বাসস্থানের জায়গা। জোয়ারে দুই বেলা ভেসে যাওয়া এ গ্রামে দেড় শতাধিক পরিবারের বাস। দুর্যোগের আঘাত থেকে বাঁচতে বিদ্যালয় বা স্থায়ী কোনো স্থাপনাও নেই এখানে। দুই ফুট বাই চার ফুট টংঘরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: মসজিদের অর্ধেক স্থাপনা নদীতে, বাকি অংশ ঝুঁকিতে

দুর্ভোগের একই চিত্র কালাবগীর ঝুলন্তপাড়াতেও। প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে এই ঝুলন্তপাড়ায় সহায়-সম্বলহীন সাড়ে ৪০০ পরিবারের বাস। অধিকাংশের বাড়িতে পানি ধরে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। চালনা থেকে আনা ২৫ থেকে ৩০ লিটারের ড্রামের পানি কিনতে হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা দামে। জনপদটির তিন সহস্রাধিক মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় নদীতে মাছ ধরে ও সুন্দরবনে কাঠ, গোলপাতা, মধু সংগ্রহ করে।

রহিমা বেগম নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, আমাদের এখানে বেঁচে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। নদী আর জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে থাকি। কবে এসে দেখবেন এই জায়গাও নদীর মধ্যে চলে গেছে।

শিউলি দাস নামের একজন জানান, ধারেকাছে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রও নেই। কেউ অসুস্থ হলে নৌকায় করে সেই চালনা পর্যন্ত নিতে নিতে রোগী আরও অসুস্থ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নদী-মাটিতে বাড়ছে লবণাক্ততা, হুমকির মুখে খাদ্য নিরাপত্তা

নদীভাঙনের কারণে এসব স্থানে কোনো টেকসই স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয় বলে জানান দাকোপের উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান।

এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন বলেন, এই জনপদের বাসিন্দারা মূলত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতেই থাকে। তবে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *