Skip to content

পাঠা পালনে ভাগ্য বদল | বাণিজ্য

পাঠা পালনে ভাগ্য বদল | বাণিজ্য

<![CDATA[

করোনাকালে বাবুর্চির চাকরি হারিয়ে পাঠার খামার করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের চরশ্যামনগর গ্রামের মফিদুল ইসলাম। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে হরিয়ানা, মেওতি তোতা, বিটল, ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ দেশি-বিদেশি ৭ জাতের ১৭টি পাঠা। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। পাঠা বিক্রির পাশাপাশি ছাগলের প্রজননও করা হয় এ খামারটিতে। মফিদুলের দাবি এটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় পাঠার খামার।

মফিদুল ইসলাম জানান, ২০০৪ সালে তিনি নিজ বাড়িতে অস্ট্রেলিয়ান গাভীর খামার শুরু করেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ধীরে ধীরে তিনি খামারের পরিধি বাড়ান। একসময় জেলার সবচেয়ে বড় গাভীর খামার হয় তার। হঠাৎই ২০১০ সালে তার খামারে ব্যাভোসিস ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এক রাতে ১৮টি গাভী মারা যায়। এরপর ২০১১ সালে তিনি ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় আবারও গাভীর খামার করেন।

‘সেসময় ডায়রিয়া হয়ে তার খামারের বড় আকৃতির ১২টি গাভী মারা যায়। এভাবে দুইবার গাভীর খামার করে তিনি প্রায় এক কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যান। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ২০১৫ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকের দায়ের করা ঋণ খেলাপির মামলায় প্রায় এক বছর জেল খাটেন। ঋণ পরিশোধ করে জেল থেকে বের হয়ে জীবিকার তাগিদে ফরিদপুর শহরের একটি স্কুলে বাবুর্চির চাকরি নেন। ২০২০ সালে করোনাকালে সেই চাকরি হারিয়ে আবারও বেকার হয়ে পড়েন তিনি। কি করবেন ভাবতে ভাবতে নিজস্ব দুই বিঘা জমিতে শুরু করেন পাঠার খামার। এ খামারের মাধ্যমেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।’

আরও পড়ুন: দীর্ঘ চেষ্টার পর সফল বশেমুরবিপ্রবি’র তানভীর

মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘গাভীর খামার করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ে আমি অনেক ঘাত প্রতিঘাতের শিকার হয়েছি। শেষ পর্যন্ত পাঠার খামার করে আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি। বর্তমানে আমার খামারে হরিয়ানা, মেওতি তোতা, বিটল, ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ দেশি-বিদেশি ৭ জাতের ১৭টি পাঠা রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। আমার খামারে পাঠা বিক্রির পাশাপাশি ছাগলের প্রজননও করা হয়। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ টি করে ছাগল প্রজনন করি। আমার এই খামারটি রাজবাড়ী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় পাঠার খামার। সরকারি ঋণ সহায়তা পেলে আমি খামারের পরিধি বড় করে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে আরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারব।

মফিদুল ইসলামের এ পাঠার খামার দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন পশু প্রেমীরা। তাকে দেখে পাঠার খামার করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেকে।

বসন্তপুর ইউনিয়নের বড় ভবানীপুর গ্রামের ছাগলের খামারি জিয়াউর রহমান বলেন, আমি মফিদুল ভাইয়ের খামার থেকে আমার ছাগল প্রজনন করাই। তার খামারে উন্নত জাতের অনেক বড় বড় পাঠা আছে। যা রাজবাড়ী জেলার মধ্যে অন্য কোথাও নেই।

আরও পড়ুন: সাবমেরিন ক্যাবলে চরাঞ্চলে ঘুরেছে ভাগ্যের চাকা

চরশ্যামনগর গ্রামের ছাদেকুর রহমান বলেন, মফিদুল ভাইয়ের পাঠার খামার দেখে আমিও একটি খামার করেছি। আমার খামারে বর্তমানে ১১ টি পাঠা আছে। খামার থেকে আমার ভালোই আয় হচ্ছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খায়ের উদ্দীন আহমেদ বলেন, বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে খামারিরা পাঠা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রজনন ফি ও পাঠা বিক্রি করে মফিদুল ইসলামের মতো অনেকেই এরইমধ্যে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা খামারিদের পাঠা বা ছাগল পালন ও বাণিজ্যিকিকরণের ব্যাপারে সব ধরণের সহায়তা দিয়ে চলেছি।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *