Skip to content

পাঠ্যবইয়ে অবহেলায় হচ্ছে ভুলের পুনরাবৃত্তি: আরেফিন সিদ্দিক | শিক্ষা

পাঠ্যবইয়ে অবহেলায় হচ্ছে ভুলের পুনরাবৃত্তি: আরেফিন সিদ্দিক | শিক্ষা

<![CDATA[

শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, পাঠ্যবইয়ে অবহেলায় হচ্ছে ভুলের পুনরাবৃত্তি, যা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলবে। সম্প্রতি সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

পাঠ্যবইয়ে যেকোনো ধরনের ভুল ইতিহাস বিকৃতি দাবি করে এ শিক্ষবিদ বলেন, অবহেলায় হচ্ছে ভুল, যা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলবে। বইয়ে ছোটখাটো ভুলগুলো শিশুদের মনে গেঁথে যাবে। সেটিই উদ্বেগের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, রচনা ও সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলায় এটি হচ্ছে, তাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

থামছেই না পাঠ্যবইয়ের ভুল। নতুন বছরের পাঠ্যবইয়েও বাংলাদেশের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে আছে মনগড়া বিবরণ। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও আছে ভুল তথ্য।

এদিকে ভুল স্বীকার করলেও এটি এড়াতে নানা উদ্যোগে গ্রহণের কথা জানিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বলছে, ভিন্ন ব্যাখ্যা করে বড় করে দেখানো হচ্ছে ছোট ভুলগুলোকে।

আরও পড়ুন: দুই বছর ধরে কোনো অনিয়ম হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী 

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য প্রফেসর মশিউজ্জামান সময় সংবাদকে বলেন, নিশ্চয় ভুল আছে, ভুল আছে বলেই সেটা দেখানো হচ্ছে, কিন্তু ব্যাপক ভুলের যে কথাটা বলা হচ্ছে সেটা কিন্তু নয়।

বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পেয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী। ১৪ বছর ধরে সরকার বিনা মূল্যে বিতরণ করছে সাড়ে চারশ কোটি বই, যা বাংলাদেশের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে পাঠ্যবইয়ে ভুল আর বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।

চলতি বছর নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ১৬ পৃষ্ঠায় আছে: মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান নিয়ে মনগড়া তথ্য। ঢাকার রাজারবাগকে পুলিশ ক্যাম্প ও পিলখানাকে ইপিআর ক্যাম্প বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পিলখানা ইপিআরের সদর দফতর বলা হয়নি। আর ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় আছে: ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল ৫টি দল নিয়ে। বাদ পড়েছে খেলাফতে রব্বানী পার্টির নাম।

নবম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে আছে নানা তথ্যগত অসংগতি: ১৮১ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে আক্রমণ শুরু হয় ২৫ মার্চ রাত থেকেই। এ বইয়ে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আসলে প্রধান বিচারপতি নয়, হবে–প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।

মাধ্যমিকের পৌরনীতি ও নাগরিকতা বইয়ে আইনের প্রকার ভেদের আলোচনায় ব্যক্তিগত আইন বলে একধরনের আইনের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে নেই কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা। আর বইয়ের ৬৩ পৃষ্ঠায় সচিবকে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান। প্রকৃতপক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হচ্ছেন মন্ত্রী।

কয়েক বছর ধরেই পাঠ্যবইয়ে পাওয়া যাচ্ছে নানা ভুল ও অসংগতি। এ নিয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বেশ কয়েকবার আদালতে তলবও করা হয়েছে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *