Skip to content

পেস ইউনিট আশা দেখাচ্ছে বিশ্বজয়ের | সময় স্পেশাল

পেস ইউনিট আশা দেখাচ্ছে বিশ্বজয়ের | সময় স্পেশাল

<![CDATA[

‘মিরপুরের দল’ হিসেবে মোটামুটি বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে বাংলাদেশের। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের স্লো স্পিন পিচ ব্যবহার করে ফায়দা নিয়ে থাকে বাংলাদেশ, নেটিজেনদের মধ্যে এমন অভিযোগ আছে অনেকেরই। অভিযোগ সত্য হোক কিংবা মিথ্যা, একটি বিষয় অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আর তা হলো- সবসময়ই স্পিন বাংলাদেশের মূল শক্তির জায়গা। বছরের পর বছর ধরে এই স্পিন বোলিং দিয়েই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে আসছেন সাকিব আল হাসান-মেহেদী হাসান মিরাজরা। তবে এবার ভিন্ন কিছু নিয়ে হাজির অ্যালান ডোনাল্ড।

মাত্র এক বছর আগেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শক্তির জায়গাটা ছিল পুরোপুরি স্পিন। পেস বোলারদের ধারাবাহিকতা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের ক্রিকেট ঘাঁটলে টেকসই কোনো পেস ইউনিটই পাওয়া যাবে না। দুই-একজন মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত চমক দেখালেও পেস বোলিং ইউনিট কখনও ধারাবাহিকভাবে সাফল্য এনে দিতে পারেনি। তাই বরাবরই স্পিনে আস্থা রাখতে হয়েছে সিলেকশন প্যানেলকে। তবে ধারণাটাই এখন বদলে দিতে চান ডোনাল্ড।

ডোনাল্ড রূপকথার এক জহুরী। তাসকিন আহমেদ-হাসান মাহমুদদের ঘষে-মেজে আসল রত্নটাই যেন বের করে আনছেন তিনি। স্পিন অ্যাটাকের মতো বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণও যে ভয়ংকর হতে পারে সেটি প্রতিনিয়তই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন তিনি। এর আগে তো কখনও এমনটা হয়নি!  

দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ বাংলাদেশে পা রেখেছেন বছরখানেক হলো। বাংলাদেশ তখন পুরোপুরি স্পিন শক্তির দল। ঘরের মাঠে স্পিন পিচের বদৌলতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দলকেও পাত্তাই দিচ্ছে না টাইগাররা। কিন্তু ঘরের বাইরে বাঘ যেন পুরোপুরি বিড়াল। বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড তো দূরের কথা, এশিয়ার দেশ পাকিস্তানেও কোনো ম্যাচ জিততে পারছেন না সাকিব-তামিমরা।

আরও পড়ুন: ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তানের নতুন শর্ত

ঘোর অমানিশার মধ্যে ডোনাল্ডের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। এমন একটি দেশ যেখানে এর আগে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো ম্যাচই জেতেনি বাংলাদেশ।  বাউন্সি উইকেট, বাংলাদেশের পেস বোলিং দুর্বলতা এবং দুদলের শক্তির ব্যবধান; সব মিলিয়ে ওই সিরিজে বাংলাদেশকে নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার খুব বেশি কিছু ছিল না। অনুমিত ছিল, আগের মতোই গো-হারা হারবে টাইগাররা। কিন্তু তামিমরা যা করলেন, তা তো নিঃসন্দেহে অবিশ্বাস্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে তাদের বিপক্ষে ম্যাচ জয় তো আছেই, গোটা ওয়ানডে সিরিজটাই জিতে নিল বাংলাদেশ! এ যেন অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। মার্করাম-ডি ককদের রীতিমতো নিস্তব্ধ করে দিয়েছিলেন তামিম-সাকিবরা। কীভাবে ঘটল এই বিপ্লব? বরাবরের মতোই এ সিরিজেও বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ বেশ শক্তিশালী ছিল। ব্যাটারদের অবদানও ছিল বেশ। তবে স্পেশাল ছিল পেসারদের অবদান। এটাই মূলত পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল।

আলাদা করে বলতে গেলে তাসকিন ছিলেন দুর্দান্ত, প্রথম ম্যাচে ১০ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। আর তৃতীয় ম্যাচে তো অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তাসকিন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের ধুলোয় মিশিয়ে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ২৬.৩ ওভারে অল আউট দক্ষিণ আফ্রিকা! শুধুমাত্র বোলিংয়ের কারণে সিরিজসেরা তাসকিন।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই সিরিজে বল হাতে ভালো করেছিলেন শরিফুল ইসলামও। স্বাভাবিকের চেয়ে পেসাররা এই সিরিজে ভালো করলেও তখন পার্থক্যটা নজরে আসছিল না কারোরই।

আরও পড়ুন: আয়ারল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণা হয়েছে, জানেন না সাকিব

কারণ, এরপর আবার সেই পুরোনো গল্প। ঘরের মাঠের সিরিজ, স্পিন নির্ভর বাংলাদেশ। পেস বোলিংয়ে আবারও ভঙ্গুর অবস্থা। তবে তাসকিন তখনও বেশ ভালো বল করেছেন। নিয়মিত উইকেট পাওয়ার পাশাপাশি রানও দিয়েছেন কম করে।

জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের করুণ অবস্থার মধ্যে কিছুটা জাত চিনিয়েছেন হাসান মাহমুদও। তবে সেটিকে পেস ইউনিটের জাগরণ বলা যায় না কোনোভাবে। বলতে গেলে বলা হবে ‘তাসকিনের নতুন রূপ’।

তাসকিনের এই জাগরণের সময়ে পেস বোলিং ইউনিটটা যে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে সেটি বোঝা যাচ্ছে এখন। গত বছর থেকেই টেস্ট ও ওয়ানডেতে নিজেকে বেশ মেলে ধরতে শুরু করেছেন এবাদত হোসেন। শরিফুল শুরু থেকেই বেশ ইকোনমিক্যাল। মাঝে মাঝে ভালো ভালো ব্রেক থ্রু এনে দেন। তবে খারাপ দিনে অনেক রান দেয়ার বাজে অভ্যাসটাও আছে তার। আর বরাবরের মতোই দলের অটো চয়েজ মুস্তাফিজুর রহমান। চাপের সময় অনেক ক্ষেত্রে ম্যাচ জেতান, অনেক সময় আবার চাপটা ধরে রাখতে পারেন না। আগের মতো হয়তো বোলিংয়ে সেই ধারটা নেই, তবে কাটার মাস্টার সবসময়ই স্পেশাল।

মোটামুটি জবুথবু এই পেস ইউনিটটা ২০২৩ সালে যেন হুট করেই বদলে গেল। ডোনাল্ডের জাদুকরি ছোঁয়া হাসান-তাসকিনদের ভয়ংকর রূপটা একেবারে বের করে আনল। আর সেই তোপেই পুড়ে ছারখার ভারত, ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। আর তাতেই নজরে আসে পেস ইউনিটের জাগরণটা।

গত বছরের শেষদিকে ভারত সিরিজ থেকে শুরু করে পেস বোলিং যে অভাবনীয় উন্নতি করেছে, সেটি বুঝতে অবশ্য রকেট সাইন্স জানা জরুরি নয়। যারা বাংলাদেশের খেলা একটু নিয়মিত দেখেন তারাই পার্থক্যটা সহজে ধরতে পারবেন। তবুও পাঠকের সুবিধার্থে কিছু পরিসংখ্যান টেনে আনা যাক।

আরও পড়ুন: শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ব্রাদার্সকে হারিয়ে পাঁচে সাকিবরা

বাংলাদেশ তাদের সর্বশেষ তিনটি সিরিজই খেলেছে দেশের মাটিতে। আর ঘরের মাঠে যেহেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি স্পিন, তাই স্পিনের সাথেই একটু তুলনা শুরু করা যাক। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ মোট উইকেট পেয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে স্পিনাররা নিয়েছেন ১৪টি উইকেট। আর স্পিন সহায়ক সেসব উইকেট থেকে স্পিনারদের সাথে তাল মিলিয়ে ১৩টি উইকেট নিয়েছেন পেসাররা।

এরপর ইংল্যান্ড সিরিজ। এই সিরিজে সাদা বলের দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশের পেসারদের মোট উইকেট ছিল ১৭টি, স্পিনারদের ক্ষেত্রে সেটি ২৫।

তবে পরিসংখ্যান দিয়ে এই সিরিজে পেসারদের অবদান বোঝা কঠিন। কারণ টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিততে বিশেষ অবদান রেখেছেন পেসাররা। স্পিন সহায়ক উইকেটেও পেসারদের ওই বোলিং যে কতোটা ইমপ্যাক্ট রেখেছে, সেটির প্রমাণ ইংলিশ ব্যাটারদের অসহায়ত্ব। হাসান-তাসকিনদের বোলিং তোপের সামনে কোনো পাত্তাই পায়নি জস বাটলার-মঈন আলীদের ব্যাটিং লাইন। ফলাফল, বাংলাদেশ প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ডকে। 

আয়ারল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা ছিলেন নিজেদের সেরারও সেরা ফর্মে। এই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ দেখলে যে কেউ বলতে বাধ্য হবেন, স্পিন নয়, পেসই তো বাংলাদেশের মূল শক্তি। সাদা বলের দুই সিরিজেই আগুণঝরা বোলিং করেছেন তাসকিন-হাসানরা। পার্থক্যও স্পষ্ট।

আইরিশদের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজে স্পিনারদের দ্বিগুণ উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। সাকিব-মেহেদীরা সব মিলিয়ে উইকেট নিয়েছেন ১২টি আর তাসকিন-হাসান এবং ইবাদত-মুস্তাফিজরা নিয়েছেন ২৫টি উইকেট।

আরও পড়ুন: চলতি মাসেই শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল

বছরের শেষদিকে ভারতের মাটিতে গড়াতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বিশ্ব আসরকে সামনে রেখে সবাই দল গোছাচ্ছে নিজেদের মতো করে। এশিয়ার চেনা কন্ডিশন বলে এমনিতেই কিছুটা সুবিধা পাবে টাইগাররা। পাশাপাশি ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের শক্তির বিষয়টি তো থাকছেই। এর সঙ্গে যদি আরেকটু উন্নতি করা যায়, তবে বিশ্ব আসরে বাংলাদেশকে দমিয়ে রাখা খুব কঠিনই হবে।

ভারতের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারেরই কমবেশি রয়েছে। টিপিক্যাল স্পিন উইকেট হলে সাকিব-মেহেদীরা কাজটা করে নেবেন সহজেই। আর বাউন্সি উইকেটে দায়িত্বটা পেসারদেরই নিতে হবে। সেক্ষত্রে যদি চলমান ফর্ম ধরে রাখতে পারেন পেসাররা, তবে বিশ্বকাপ জেতাও খুব একটা অসম্ভব হবে না বাংলাদেশের জন্য।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *