Skip to content

‘ফিনিক্সের মতোই’ ছাই থেকে শুরু বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের | বাংলাদেশ

‘ফিনিক্সের মতোই’ ছাই থেকে শুরু বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের | বাংলাদেশ

<![CDATA[

গ্রিক পুরাণের পাখি ফিনিক্সের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা ছিল, সে যে আগুনে পুড়ে যায় সেই আগুন থেকেই পুনরায় আরও শক্তিশালী হয়ে জন্ম নিতে পারে। ফিনিক্স রোডের ওপর দাঁড়ানো রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও আগুনে সব হারিয়ে, নিঃস্ব হয়ে ঈদের আগেই আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন রূপ কথার সেই ফিনিক্স পাখির মতো।

বঙ্গবাজার কিছুদিন আগেও ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত। সেই বঙ্গবাজার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 

বুধবার (১২ এপ্রিল) সেই ভস্মীভূত ভবনের নিচে চৌকি বসিয়ে পণ্য নিয়ে বসেছেন বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক ব্যবসায়ী কাঠের চৌকিতে কাপড় নিয়ে বসে আছেন। তবে, লাখ লাখ টাকার পণ্যের পরিবর্তে তারা কয়েক হাজার টাকার পণ্য নিয়ে বসেছেন। ক্রেতার দেখা ঢিমেতালে।

 

বঙ্গবাজারের যেখানে আগে দোকান ছিল, ঠিক সেখানেই হাজী মহিউদ্দিন এখন চৌকি নিয়ে বসেছেন। তার দোকানে ৫০-৫৫ লাখ টাকার পণ্য ছিল, ঠিক সেই স্থানটিতেই এখন মাত্র ৩০ হাজার টাকার পণ্য তুলেছেন তিনি।

 

আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ২ কোটি ১২ লাখ টাকা

 

তিনি বলেন, যেই টাকার পণ্য এইখানে রাখা, তা আমাদের একটা পার্টিরই পণ্য। এ কয় টাকার পণ্য আনছি, তাও বাকি। নারায়ণগঞ্জের কারখানা থেকে বাকিতে নিয়ে আসছি সব মাল। বেইচা টাকা দিমু।

 

রাইয়ান গার্মেন্টস দোকানের মালিক মাসুদ পারভেজ বলেন, যেখানে ২৫ লাখ টাকার মাল পুড়েছে, সেখানে মাত্র ২০-২৫ হাজার টার মাল নিয়ে বসেছি। আমার আগে যেখানে দোকান ছিল, সেখানেই বসেছি।

 

মহিউদ্দিন বা শুধু মাসুদ নয় অধিকাংশ ব্যবসায়ীই বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে বাকিতে পণ্য নিয়ে এসেছেন। সেই পণ্য বিক্রি করেই ফ্যাক্টিরির টাকা পরিশোধ করবেন বলে জানান তারা। এছাড়া অনেকই তাদের শেষ সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে আবার বঙ্গবাজারে পণ্য তুলেছেন।

 

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবাজারের এক দশমিক ৭৯ একর জায়গাজুড়ে বালি ও ইট বিছানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ৪০ গাড়ি বালি ও প্রায় ৯০ হাজার ইট বিছানো হয়েছে। পুরো এলাকায় প্রায় দুই দশমিক পাঁচ লাখ ইট বিছানো ও প্রায় ১৫০ গাড়ি বালি ফেলা হবে।

 

বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এখনও অনেক টাকা ঘাটতি রয়েছে তাদের। দেশবাসী, প্রবাসী ও বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

 

বঙ্গবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এ পর্যন্ত সহায়তা এসেছে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। এফবিসিসিআই সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা দিয়েছে।

 

রাজধানীর বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডে ৩ হাজার ৮৪৫ জন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তদন্ত কমিটি।

 

আরও পড়ুন: হজের জমানো টাকা বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের দিলেন তৃতীয় লিঙ্গের আলেয়া

 

এর আগে, গত ৪ এপ্রিল ভোর ৬টা ১০ মিনিটে দেশের অন্যতম বড় কাপড়ের মার্কেট বঙ্গবাজারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, বাতাসের মধ্যে ঘিঞ্জি ওই মার্কেটের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

 

ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিটের চেষ্টায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বঙ্গবাজার মার্কেট, মহানগর মার্কেট, আদর্শ মার্কেট ও গুলিস্তান মার্কেট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাশের আরও কিছু ভবন।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *