Skip to content

ফিরে আসতে পারবেন কি ইমরান খান? | আন্তর্জাতিক

ফিরে আসতে পারবেন কি ইমরান খান? | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

গত বছর এপ্রিল মাসের শুরুতে ক্ষমতাচ্যুত হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরপর ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য তিনি একটি বড়সড় ধাক্কা দিলেন রাজপথে। বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনে জয়ীও হয়েছে তার দল। ইমরান খান এখনও মনে করেন তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবেন। আসলে কি তা সম্ভব?

ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আগামী দিনগুলোতে তার দল আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে রাস্তায় তীব্র বিক্ষোভের মধ্যদিয়ে। তারপর থেকে তিনি তার দেশের নতুন ১৩-দলীয় জোট সরকারের কাছে একটি আগাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানান। বর্তমান জাতীয় পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে। সে হিসাবে নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৩ সালের অক্টোবরে।

ইমরান খান গত বছর ২৫ অক্টোবরে আগাম নির্বাচনের দাবি পূরণ এবং সরকার পতনের জন্য সারা দেশ থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রার ডাক দেন তার সমর্থকদের নিয়ে। তার এই কৌশল কাজে লাগেনি শেষ পর্যন্ত। এর আগে ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন ইমরান। তখন তিনি ইসলামাবাদে ১২৬ দিনের টানা এক বিশাল বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন।

ইমরান তখন বলেছিলেন, তিনি ‘আপাতত’ চুপ  থাকবেন। কারণ তিনি দেশ এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ‘ক্ষতি’ হোক তা চান না। এর আগে পাকিস্তানের আইএসআই প্রধান অভিযোগ করেছিলেন যে, ইমরান গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকে একটা ‘লোভনীয় প্রস্তাব’ দিয়েছিলেন তার সরকারের প্রতি সমর্থন চেয়ে।

আরও পড়ুন: বক্তব্য সম্প্রচার বন্ধের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ইমরানের আবেদন

আইএসআইপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আহমেদ আনজুমের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইমরান খান বলেন, এটি একটা একতরফা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া নাদিম আহমেদ পাকিস্তানের ‘চোরদের’ বিরুদ্ধে একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি। ‘যাইহোক, আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো জাতিকে মুক্ত করা এবং পাকিস্তানকে একটি স্বাধীন দেশে পরিণত করা,’ ইমরান বলেন।

দলের সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফের মতো তিনি পলাতক নন যে চুপচাপ বসে থাকবেন আর লন্ডনে থেকে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করবেন। ‘আমি এই দেশেই থাকব আর এই দেশেই মরব। আমি এই দেশ ছেড়ে যাচ্ছি না,’ বলেন ইমরান।

ফের আন্দোলন  

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ‘জেল ভরো’ আন্দোলন শুরু করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ‘জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য’। পিটিআই পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোর থেকে তাদের অভিযান শুরু করে।

এরপর ধারাবাহিক টুইট বার্তায় ইমরান বলেন, ‘আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে পিটিআই এই শান্তিপূর্ণ, অহিংস প্রতিবাদ’ শুরু করেছে। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এফআইআর (পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত প্রথম তথ্য প্রতিবেদন) এবং অ-জামিনযোগ্য মামলা, হাজতে নির্যাতন, সাংবাদিক এবং সামাজিকমাধ্যমের লোকেদের ওপর হামলার প্রতিবাদ করছি।’

পাকিস্তানের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য আয়াজ আমির বিশ্বাস করেন যে, ইমরান খানের পিটিআই তাদের বিক্ষোভের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ‘জেল ভরো’ প্রতিবাদ আন্দোলনকে ক্ষমতাসীন জোটের জন্য ‘আরেকটি মাথাব্যথা’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই পদক্ষেপটি কীভাবে সরকারকে প্রভাবিত করবে তা দেখার এখনও বাকি আছে। কিন্তু এ বিষয়টি দৃশ্যমান যে, এমন কিছু লোক পিটিআইতে আছে যারা ইমরান খানের জন্য কারাগারে যেতে প্রস্তুত। এটি সরকারের জন্য নিশ্চয়ই বিব্রতকর।’

গ্রেফতারের চেষ্টা

গত ৫ মার্চ লাহোরে ইমরান খানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল পুলিশ। বাসভবনে থেকেও পুলিশকে এড়িয়ে যেতে পেরেছেন ইমরান খান।

ইসলামাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, তারা ওইদিন দুপুরে পাঞ্জাব পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ইমরান খানের জামান পার্কের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, পিটিআই-এর নেতাকর্মীরা তার বাড়ি ঘিরে রেখেছে। এরপর কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের টেলিভিশনে ইমরান খানের যে কোনো ধরনের ভাষণ সম্প্রচার বা পুনঃসম্প্রচার নিষিদ্ধ করে দেয়।

তার বিরুদ্ধে দায়ের করা তোশাখানা মামলায় ইমরান খান এরইমধ্যে আদালতের শুনানি এড়িয়ে গেছেন তিনবার। ফলে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আদালত এই মামলায় জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি।

কেন ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হলেন?

ইমরান খান তার সাড়ে তিন বছরের উত্তাল শাসনামলে যা করে দেখাতে চেয়েছিলেন, তা তার সমালোচকরা ভালোভাবে নেয়নি। তারা তার সব পরিকল্পনাকে এলোমেলো ও অসংলগ্ন বলে চিহ্নিত করেন। লেনদেনের ভারসাম্যের সংকটের মুখে, তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে একটি বেইলআউট চাইতে অনেক দেরি করে ফেলেছিলেন। ইমরান শেষ পর্যন্ত তা করলেন, তবে ২০১৯ সালে। তেল এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোসহ আইএমএফের অনেক কঠোর শর্ত মেনে নিয়েছিলেন ইমরান।

আরও পড়ুন: ইমরান খানের ভাষণ সম্প্রচার করায় টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স বাতিল

কিন্তু ২০২০ সালে প্রোগ্রামটি স্থগিত করে দেয়া হয় মহামারির কারণে। পরে গত বছর পরিকল্পনাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস পর, ইমরান খান অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খরচ এবং বিদ্যুতের হার কমিয়ে দিয়ে আবার আইএমএফের প্রোগ্রামকে বিপদে ফেলে দেন। ইমরান সেটি করেছিলেন মূলত ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে। পরে নতুন সরকার এই বেইলআউট প্রোগ্রামটি পুনরুজ্জীবিত করে গত আগস্টে মাসে।

ইমরান খানের একটা বড় অভিযোগ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে খুন করার পরিকল্পনার একটি চিঠি নিয়ে কথা বলায় তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে তাকে অপসারণের জন্য। তিনি বলেন, এটি ছিল একটি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র তার এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

পাকিস্তানে কেন সেনাবাহিনীর অবস্থান এতটা গুরুত্বপূর্ণ?

একটা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিবেচিত হলেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাদের ক্ষমতাকে ইস্পাত-কঠিন করে নিয়েছে। তিনটি সফল সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে সে দেশে। ইমরান যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন সেটি ছিল সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো একটি বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর।

পাকিস্তানে এমনকি যখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখনও সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে তার গুপ্তচর শাখা, ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এজেন্সি পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। সশস্ত্র বাহিনী বড় করপোরেশনগুলোতে জমির মালিকানা এবং শেয়ারহোল্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থনীতিতে তাদের বড় অবস্থান তৈরি করে রেখেছে।

সেনাবাহিনী কি ইমরানকে সমর্থন করেছিল?

পাকিস্তানের ৭৫ বছরের ইতিহাসে সেনাবাহিনীই প্রায় অর্ধেক সময় ধরে শাসন করে দেশটি। ইমরান খান দেশের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সাথেও বড় রকমের বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তখন।

ইমরান বলেছেন যে, তার ক্ষমতায় থাকার প্রথম তিন বছর সেনাবাহিনীর সাথে তার সম্পর্ক ছিল ‘চমৎকার’।  তিনি এবং জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া সমস্ত বিষয়ে ‘একই নৌকায়’ ছিলেন। আসলে বাইরে থেকেও তাই মনে করা হত। এটিকে সমালোচকরা একটি হাইব্রিড শাসন হিসেবে উল্লেখ করতেন তখন। পর্দার আড়ালে থেকে কৌশলে সশস্ত্র বাহিনী তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার জন্য বিরোধীদের দ্বারা পূর্ববর্তী বেশ কয়েকটি পদক্ষেপে টিকে থাকতে সাহায্য করেছিল। এটি ইমরান খান তার ক্ষমতাচ্যুতির পরে দেয়া সাক্ষাৎকার বলেছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে সেনাবাহিনী তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে।

‘পাকিস্তানের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখন প্রবল রাজনৈতিক ঝড়ের আড়াআড়ি চুলে আটকা পড়েছে,’ বললেন পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি।

তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব একটি নতুন বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে যায় এবং তাদের বৈধতা ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে এটি দেশকে আরও শাসনহীন অবস্থায় নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, একটা নতুন নির্বাচনই পারে পাকিস্তানকে এই রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে।

তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, আল জাজিরা, দ্য ডন

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *