Skip to content

বর্তমানে ঢাকায় যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বপ্নের ফ্ল্যাট | বাণিজ্য

বর্তমানে ঢাকায় যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বপ্নের ফ্ল্যাট | বাণিজ্য

<![CDATA[

নিজের একটি ঘরের স্বপ্ন কার না থাকে। এ স্বপ্ন পূরণে রাজধানীবাসীর একমাত্র ভরসাস্থল পছন্দসই জায়গায় একটি ফ্ল্যাট কেনা। রাজধানীবাসীর এ ইচ্ছার কথা মাথায় রেখেই প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে আবাসন মেলা।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে রিহ্যাব ফেয়ার ২০২২। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঁচদিনব্যাপী মেলায় থাকছে দেশের নামীদামী সব আবাসন কোম্পানি।

দেশে ফ্ল্যাটের চলমান মূল্যের হালচাল বুঝতে মেলা ঘুরে দেখা যায়, গত এক বছরের তুলনায় চলতি বছরে ফ্ল্যাটের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। কয়েক বছর আগেও যে ফ্ল্যাট পাওয়া যেত ৬০-৮০ লাখ টাকায় এখন তার দাম বেড়ে হয়েছে ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা।

কয়েকটি আবাসন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে গুলশান এলাকায় প্রতি বর্গফুটের ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। বনানীতে বর্গফুট প্রতি ফ্ল্যাটের দাম ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা, ধানমণ্ডিতে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা, উত্তরায় জায়গাভেদে ১১ থেকে ২২ হাজার টাকা, খিলগাঁও ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা, বসুন্ধরায় ১১ থেকে ১৪ হাজার টাকা দরে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে।

সাধারণত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতে মোটামুটি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট প্রয়োজন হয়। মূলত এগুলোকেই মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাট বলা হয়। ফ্ল্যাটের দাম অনুসারে ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে চাইলে গুনতে হবে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা ও সাধারণ এলাকাগুলোতে থাকলে চাইলে ফ্ল্যাটের দাম পড়বে এক থেকে দেড় কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণে প্রকল্প চায় সংসদীয় কমিটি

কোটি টাকার ওপরে ফ্ল্যাট কেনা মধ্যবিত্তদের জন্য এক রকমের বিলাসিতা। এতে করে মধ্যবিত্তদের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে কি-না জানতে চাইলে র‍্যাঙ্গস প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপক (সেলস) কে. এম. স্বপ্নিক মাহমুদ সময় সংবাদকে বলেন, ‘যে মানুষটার বেতন ৫০-৬০ হাজার টাকা তার জন্য ঢাকার মধ্যে ফ্ল্যাট কেনা আসলেই কঠিন। এক্ষেত্রে ঢাকার আশেপাশে সাভার কিংবা গাজীপুরে ফ্ল্যাট কেনা যেতে পারে। ওই এলাকাগুলোতে ফ্ল্যাটের দাম বেশ কম। সাভারের দিকে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বর্গফুটে ফ্ল্যাট পাওয়া যায়। যদিও ব্যাংক সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হোম লোন দিয়ে থাকে তবে এটা কিন্তু সর্বোচ্চ। অনেকক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ঋণ না পাওয়ায় গ্রাহকদের জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়।’

সাভার কিংবা গাজীপুরে ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে জানতে চাইলে ফ্ল্যাট বুকিং এর উদ্দেশ্যে মেলায় আসা রকিবুল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের কাজ-বাজ, অফিস-আদালত সব রাজধানীকেন্দ্রীক। আমি যদি গাজীপুর কিংবা সাভারে ফ্ল্যাট কিনি তাহলে তো আমার যাওয়া-আসা করতেই দিন শেষ। সরকার বলছে, তারা ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়। এটা ভালো উদ্যোগ। সে হিসাবে আগে মানুষ ঢাকার বাইরে না পাঠিয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকার বাইরে পাঠানো উচিত। ঢাকার বাইরে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হলে এমনিতেই ঢাকা বিকেন্দ্রীকরণ হয়ে যাবে।’

সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) ভবনের উচ্চতা নিয়ে রিহ্যাবের সঙ্গে বেশ কিছু জটিলতা থাকলেও চলতি বছরের ২৩ আগস্ট উচ্চতা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে এক প্রজ্ঞাপনে নতুন ড্যাপের অনুমোদন দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নতুন ড্যাপ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ড্যাপের পরিকল্পনা নিয়ে কনকর্ড গ্রুপের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শেখ ফরিদ সময় সংবাদকে বলেন, ‘এমনিতেই বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতে ফ্ল্যাটের দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ওপরে যদি ভবনের উচ্চতার বিষয়টি বেধে দেয়া হয় তাহলে তো ফ্ল্যাট সংকট দেখা দিবে। দেখা যাবে মানুষের হাতে টাকা আছে কিন্তু কেনার মতো ফ্ল্যাট নেই।’

আরও পড়ুন: উন্নয়ন প্রকল্পের খড়গ সইতে গিয়ে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী

রিহ্যাবের মেলায় এমন অনেকে এসেছেন যারা আগে কখনও ফ্ল্যাট কেনেননি। এক্ষেত্রে নতুন ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে ক্রেতারা এক রকমের দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেন। নতুন ফ্ল্যাট কিনতে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখা উচিত জানতে চাইলে শেলটেকের সিনিয়র সহকারি মহাব্যবস্থাপক এ. কে. এম. রাফিউল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ‘সবার শুরুতে ক্রেতাকে ভালো একটি আবাসন কোম্পানি বেছে নিতে হবে। অনেকেই আজেবাজে কোম্পানির থেকে ফ্ল্যাট কিনে ঠকে থাকেন। যে ফ্ল্যাট ২ বছরের মধ্যে হস্তান্তর করার কথা তা হস্তান্তর করতে ৫-৬ বছর সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে যে কোম্পানি থেকে ক্রেতা ফ্ল্যাট কিনবেন সেই কোম্পানির ব্যাপারে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে নেয়া উচিত। সবথেকে ভালো হয় কোনো আবাসন কোম্পানিতে পরিচিত কেউ থাকলে। তাহলে ক্রেতা সহজেই একটি কোম্পানি নিয়ে সুষ্ঠু ধারণা নিতে পারবেন।’

পাঁচদিনব্যাপী চলা এবারের মেলায় থাকছে ১৮০টি স্টল। আবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ১৬টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৩টি অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানের স্টলও থাকছে এবারের রিহ্যাব ফেয়ারে। একজন গ্রাহক সহজেই মেলায় গিয়ে দেশের আবাসন বাজার যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। দর্শনার্থীরা টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা ও মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী দিনে ৫ বার মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *