Skip to content

বলসোনারোকে দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান মার্কিন আইনপ্রণেতাদের | আন্তর্জাতিক

বলসোনারোকে দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান মার্কিন আইনপ্রণেতাদের | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

ব্রাজিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সমর্থকদের দাঙ্গা-সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। সেই সঙ্গে নতুন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তারা। দাঙ্গার ঘটনায় উসকানি দেয়ার অভিযোগের পর বলসোনারোকে দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ব্রাজিলের বিতর্কিত এই নেতা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

গত রোববার (৮ জানুয়ারি) রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় পার্লামেন্ট ভবন, সুপ্রিম কোর্ট ভবন ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে তাণ্ডব চালায় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান জাইর বলসোনারোর সমর্থকরা। জাতীয় পতাকা নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ও ছাদে অবস্থান নেয় তারা। এ সময় স্পর্শকাতর স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়, করা হয় অগ্নিসংযোগও। নির্বাচনে বোলসোনারোর পরাজয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালিয়েছে তারা।  

বলসোনারো সমর্থকদের দাবি, কারচুপি-জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটে জয় পেয়েছেন লুলা। অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখলের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি জানায় তারা। তবে কয়েক ঘণ্টা পর দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ দাঙ্গাকে ফ্যাসিস্টদের বর্বরতা বলে আখ্যা দেন প্রেসিডেন্ট লুলা।

এ ঘটনায় উসকানির অভিযোগ ওঠার পর বলসোনারোকে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। দেশটির প্রতিনিধি পরিষতের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য জোয়াকিন কাস্ত্রো বলেছেন, বোলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেখা পথে দেশীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করেছেন।’ কাস্ত্রো আরও বলেন, ‘এ মুহুর্তে বলসোনারো ফ্লোরিডায় আছেন। তাকে ব্রাজিলের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। এই স্বৈরাচারীর আশ্রয় যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া উচিত নয়।’

আরও পড়ুন: নব্য ফ্যাসিবাদীদের বিচার হবে: লুলা

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বলেছেন, ‘যেদিন মার্কিন ক্যাপিটল হিল আক্রান্ত হয়েছিল তার প্রায় দুই বছর পর আমরা আবারও দেখতে পেলাম, ফ্যাসিবাদী শক্তি ব্রাজিলে একই কাজ করার চেষ্টা করছে।’ বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দাঙ্গার ঘটনার পর এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারাও। নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্রাজিলে গণতন্ত্রের ওপর ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর হামলার নিন্দা জানাই।’ বোলসোনারোর সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট লুলার প্রতি শক্ত সমর্থন জানিয়েছে মস্কো।

আরও পড়ুন: ব্রাজিল পার্লামেন্টে হামলা /যেভাবে সৃষ্টি হলো এই পরিস্থিতি

সোমবার (৯ জানুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ব্রাজিলে হওয়া দাঙ্গার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে।’ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ব্রাজিলের পার্লামেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টের ওপর এ হামলাকে ‘গণতন্ত্রের উপর কাপুরুষোচিৎ ও জঘন্য আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটি অভ্যুত্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সহিংসতার নিন্দা ও লুলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বলসোনারোর নব্য-ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীগুলোর চালানো সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করছি।’ ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, লুলার প্রতি তার দেশের ‘অটল সমর্থন’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাজিলের জনগণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে’।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলে ভয়াবহ দাঙ্গা, আটক ১৫০০

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও লুলাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ব্রাজিলের কংগ্রেসে হামলার নিন্দা জানাই ও অবিলম্বে গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতায় ফিরে আসার আহ্বান জানাই।’ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *