Skip to content

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিরসনের পথ বাতলে দিল এমবার | বাণিজ্য

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিরসনের পথ বাতলে দিল এমবার | বাণিজ্য

<![CDATA[

আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কিনতে আগামী তিন বছরে ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বাংলাদেশের। অথচ একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে জ্বালানি বিষয়ক আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক এমবার।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়ে তৈরি এক বিশ্লেষণে এমবার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর কারণে সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সংকটে পড়ে বাংলাদেশ, যে কারণে বিপুল অর্থ ব্যয়ে এলএনজি আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে।

এমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায় গড়ে প্রতি বছর ৮ শতাংশ করে। আর এ বর্ধিত চাহিদার ৬২ শতাংশই মেটানো হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। ২০২১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে এমবার বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাংলাদেশে যে পরিমাণ গ্যাস জোগান দেয়া হয়েছে তার ২২ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

প্রতিবেদনে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগ ২০২১-২২ অর্থবছরে বিশ্ববাজার থেকে যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি করেছে তার ৫৯ শতাংশ এসেছে স্পট মার্কেট থেকে। উচ্চমূল্যে এ এলএনজি আমদানির কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়য়ক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, খুব শিগগিরই বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না। এ গ্যাস সংকট বজায় থাকতে পারে আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত।

এমবারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি বছর বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ৮ শতাংশ করে। এই চাহিদার ৬২ শতাংশ মেটানো হচ্ছে গ্যাস থেকে। এতদিন দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাসের যোগান স্বাভাবিক থাকায় এ চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এত বিপুল পরিমাণ গ্যাসের যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাড়তি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ২০১৮-১৯ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করে আসছে। পাশাপাশি ২০২০ সাল থেকে এলএনজি কেনা শুরু করেছে স্পট মার্কেট থেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এলএনজি রফতানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় না থাকায় অধিক দামে খোলা বাজার বা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হয় বাংলাদেশকে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাবে এই স্পট মার্কেট ব্যাপক অস্থিতিশীল থাকার কারণে হুমকির মুখে থাকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ অর্থবছরে দেশের স্পট মার্কেট থেকে ৪ দশমিক ১৪ মিলিয়ন কিউবিক মিটার (এমসিএম) এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি আর বাড়বে না সেই হিসাবকে স্থিতিশীল ধরে নিলেও স্পট মার্কেট থেকে ২০২২-২৪ সাল পর্যন্ত ১২ দশমিক ৪২ এমসিএম এলএনজি আমদানি করতে হবে জ্বালানি বিভাগকে।

জ্বালানির বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত পরিমাণ এলএনজি কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ১১ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১০৬ টাকা ধরে)। অথচ একই সময়ে এই পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশ সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।

ভারতের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বিবেচনা করে এমবার জানিয়েছে, প্রতি হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের খরচ ৫৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ভারতের থেকে অর্ধেক বেশি হবে ধরে নিলেও এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হতে যাওয়া ১১ বিলিয়ন ডলারে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

২০২১ সালে প্রকাশিত সরকারের মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান অনুসারে, আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের ব্যবহৃত জ্বালানির ৪০ শতাংশের উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে এমবারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান সংকট সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগ দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এ সংকটকে সম্ভাবনায় পরিবর্তিত করতে পারে।

সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এ জন্য উপযুক্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে শুধু বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি আরও অন্যান্য সমস্যাও সমাধান হবে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে অভিমত ব্যক্ত করেন এমবারেরর সিনিয়র ইলেক্ট্রিসিটি পলিসি অ্যানালিস্ট আদিত্য লোলা।

তার মতে, নবায়ন যোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতেও বাংলাদেশের দর কষাকষির অবস্থানকে সংহত করবে। পাশাপাশি কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে অধিক মূল্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর থেকে বাংলাদেশের নির্ভরতাও কমাবে। এ ছাড়া বিশ্বের অস্থিতিশীল জ্বালানি পরিস্থিতিতে তেলের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামার কারণে হুমকির মুখে পড়া বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকেও সুরক্ষা দেবে এই পদক্ষেপ।

এমবার তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, বিদ্যুতের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে অধিক গুরুত্ব দিলেও গত এক দশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি খুব সামান্য হয়েছে। ২০২১ সালে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র এক শতাংশ এসেছে জল ও সৌর বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে।

অথচ ২০২৪ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যানকে বাস্তবায়ন করা গেলে অন্তত ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের। এতে এলএনজি আমদানি বাবদ ব্যয় ২৫ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য হওয়ায় এ পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলেছে।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *