Skip to content

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরি হওয়া নবজাতক চার ঘণ্টায় উদ্ধার | বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরি হওয়া নবজাতক চার ঘণ্টায় উদ্ধার | বাংলাদেশ

<![CDATA[

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরি হওয়া নবজাতকতে চার ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণকারী নারীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

শিশুটির পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের তেলিনগর গ্রামের রেখা আক্তার প্রসব ব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন সন্ধ্যায় ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়ে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে নবজাতককে নিয়ে অবস্থান করছিলেন ওই প্রসূতি মা।

আরও পড়ুন: ঢামেকে লাখ টাকায় নবজাতক বিক্রির চেষ্টা, বাবা আটক

বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করে তানিয়া নামে এক বোরখা পরিহিত মধ্যবয়সী নারী এসে ওই নারী ও তার শাশুড়ির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে কৌশলে নবজাতকটিকে উন্নত ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তিনি নবজাতকের ফুফু তিশা মনিকে সঙ্গে নিয়ে শহরের ল্যাবএইড হাসপাতালে যান। সেখান ডাক্তার না দেখিয়ে শহরের লাখিবাজার জুয়েলারি মার্কেটে যান। সেখানে তানিয়া (অপহরণকারী) নিজের গহনা বিক্রি করে তিশা মনির হাতে ১৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে কৌশলে নবজাতকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ খবরে রেখা ও স্বজনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে এসে খোঁজখবর নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার সিন্দুরা গ্রাম থেকে অপহরণকারী নারীসহ নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়।

রেখা আক্তার বলেন, দুপুরে ওই নারী এখানে এসে আমার শাশুড়িকে পাঁচশ টাকা দিয়ে আমার জন্য ফল নিয়ে আসতে বলেন। পরে তিনি গরীবদের সহযোগিতা করেন বলে জানান। আমার ছেলের ঠান্ডা লেগেছে বলে তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে আমার ছেলে ও আমার ননদকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান ওই নারী। সেখান থেকে ছেলেকে নিয়ে চলে যান। এখন আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। এর চেয়ে আনন্দ আর কিছু হতে পারে না। পুলিশ যদি না থাকতো আর সাংবাদিকরা যদি প্রচার না করতো তাহলে আমরা সন্তানকে কখনোই পেতাম না।

শিশুটির বাবা ফরিদ মিয়া জানান, তিনি বাড়িতে ছিলেন। হাসপাতালে এসে শোনেন এক নারী সন্তানকে নিয়ে চলে গেছে। পুলিশ সন্তানকে খুঁজে এনে দিয়েছে। এখন অনেক খুশি লাগছে। পুলিশসহ সবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: সড়কের পাশে পড়ে ছিল কম্বল প্যাঁচানো নবজাতক

এ ঘটনায় জরিত অপহরণকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় শিশুটির পরিবার।

হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ (নার্স) খাদিজা আক্তার জানান, হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের প্রবেশাধিকার রোধ করা সম্ভব হয় না। 

বাচ্চা চুরির বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরাসহ অভিভাবকদের আরও সর্তক থাকতে হবে। সবার সহযোগিতায় বাচ্চাটিকে ফিরে পাওয়ায় সবাই খুব খুশি হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ঘটনা জানার পর দুপুর থেকে শহরের অলিতে গলিতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের সিন্দুউড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তানিয়াসহ শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

অপহরণকারী তানিয়া আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নিয়াজ আহাম্মদ লিটনের স্ত্রী। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি এমরান হোসেন।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *