Skip to content

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরের জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন | বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরের জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন | বাংলাদেশ

<![CDATA[

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব পাইকপাড়া শ্রী শ্রী কৈবল্যভূম আশ্রমের দখলে জায়গা ব্যক্তির নামে লিজ দেয়ার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন।

শনিবার (৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়াদের দাবি শ্রী শ্রী কৈবল্যভূম আশ্রম ও রাম ঠাকুর মন্দিরের পাশের বাসিন্দা ফুলুরানী রায় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অর্পিত সম্পত্তি লিজ এনে বসবাস করছিলেন। পরে মন্দিরের জায়গাটির স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফুলু রানী মন্দিরকে তার লিজ নেয়া জায়গা দিয়ে দেন। 

পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ফুলু রানীর জায়গাটি মন্দিরের নামে নেয়ার জন্যে আইনি বিধি মেনে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক মন্দির কর্তৃপক্ষের আবেদনকে উপেক্ষা করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মন্দিরের দখলে থাকা জায়গাটি প্রতিবেশী অনিল মল্লিককে পুনরায় লিজ দেন। 

এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সনাতন ধর্মের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। তারা এলাকাভিত্তিক সভা সমাবেশ করেন। পরে শনিবার সকালে মন্দিরের জায়গা মন্দিরকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিলসহ মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া পূজা উদযাপন পরিষদের জাতীয় সদস্য সুজন দত্ত বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্বপাইকপাড়া শ্রী শ্রী কৈবল্যভূম আশ্রমের ৪ শতক ভূমির মালিক ফুলু রানী মল্লিক জায়গাটি মন্দিরকে দান করেছেন এবং জায়গাটি মন্দিরের দখলে ছিল। এ জায়গাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মন্দির ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা না করে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দিয়েছেন। আমরা চাই সেই লিজ বাতিল করে মন্দিরের জায়গা মন্দিরকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।’

আরও পড়ুন: সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে বোদেশ্বরী মন্দির

গৌরি রাণী রায় নামে আরেক ভক্ত বলেন, ‘আমাদের মন্দিরের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাশের জায়গাটি আমাদের প্রয়োজন। আমরা যতদিন এ জায়গা না পাব আমরা আন্দোলন করে যাব। যেকোনো মূল্যে আমাদের জায়গা ফিরিয়ে দিতে হবে।’

শিল্পী বনিক নামে আরেক ভক্ত বলেন, ‘মন্দিরের নামে যে জায়গা ছিল সে জায়গা পাশের এক লোক লিজ নিয়েছেন। আমরা আমাদের মন্দিরের জায়গা পুনরায় ফেরত চাই।’

জেলা প্রশাসক থেকে এরআগে লিজ গ্রহীতা ফুলুরানী বলেন, ‘আমার ওপর প্রতিবেশীদের অত্যাচারের কারণে আমি এই জায়গা রামঠাকুর মন্দিরকে দিয়ে দিয়েছি। আইনগতভাবে আমার লিজ কেউ কাটতে পারেন না। এখন জেলা প্রশাসক আমার লিজ কেটে অন্য একজনকে লিজ দিয়ে দিয়েছেন। আমার লিজের সময় শেষ হওয়ার আগেই অন্যজনকে লিজ দেয়া জেলা প্রশাসকের ঠিক হয়নি।’

শ্রী শ্রী কৈবল্যভূম আশ্রমের সভাপতি রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘গত ৩০ জানুয়ারি বিভাগীয় কমিশনার চিঠি দিয়ে তলব করেছেন। এ চিঠি পাওয়ার পর থেকে অশুভ শক্তির তৎপরতা বেড়ে গেছে। তারা ২-৭ তারিখের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করে তৃতীয় ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। যেটা আইন সম্মত হয়নি। কারণ আমরা এই জায়গার জন্য আবেদন করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা মনেকরি এটি মন্দির বিরোধী শক্তি প্রতিফলন হয়েছে। আমরা চাই আমাদের মন্দিরের জায়গা মন্দিরের নামে দেয়া হোক।’

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় মন্দির থেকে মূর্তি চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সোমেষ রাঞ্জন রায় বলেন, ‘ফুলু রানী রায় যাদের অত্যাচারে শেষ বয়সে এসে মন্দিরের নামে জায়গাটি দিয়েছেন সেই অত্যাচারীদের নামেই জায়গার লিজ দেয়া হয়েছে। জায়গাটি মন্দিরের দখলে ছিল। তাছাড়া পূর্ব পাইক পাড়ায় কোনো সামাজিক সভা বা মাদক বিরোধী সভা করার জন্যও কোনো জায়গা নেই। সেইসব সভা অনুষ্ঠিত হতো এই মন্দিরে। মন্দিরের বিরুদ্ধে গিয়ে জেলা প্রশাসক যে কাজটি করেছেন সেটি সঠিক হয়নি। আগামী ১৫দিনের মধ্যে মন্দিরের জায়গা মন্দিরকে বুঝিয়ে দেয়া না হলে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘মন্দিরের জায়গা লিজ নিয়ে এখানে মানববন্ধন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ। মানববন্ধনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের দাবির বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।’

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *