Skip to content

ভবিষ্যতের বাজেট পরিকল্পনায় কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা | সময় স্পেশাল

ভবিষ্যতের বাজেট পরিকল্পনায় কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা | সময় স্পেশাল

<![CDATA[

একটি দেশের জাতীয় বাজেট তৈরিতে মাসের পর মাস ধরে চলে পরিকল্পনা ও খসড়া প্রস্তুত কর্মসূচি। এ ধরণের সুক্ষ্মকাজে পরবর্তীতে কাজে লাগানো যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সকে (এআই)। এতে করে একদিকে বাঁচবে সময়, অন্যদিকে কাজ হবে অপেক্ষাকৃত নির্ভুল।

এআই দিয়ে আদৌ কি আর্থিক পরিকল্পনা করা সম্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, সব কাজের কাজী এআই দিয়ে চাইলে সামষ্টিক ও ব্যষ্টিক দুই ধরনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করা সম্ভব। সম্প্রতি ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এআই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পদ্ধতিগত কার্যক্রম ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করতে সক্ষম। এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে কী ধরনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপরে চলবে তার রূপরেখাও এআই’র সাহায্যে তৈরি করা যায়।
 

তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করা এআই জেনেসিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরচিল চেইশিভিলি জানান, এআই’র চোখে এমন সব উপাত্ত ধরা পড়ে যা মূলত সাধারণ মানুষের চোখকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এ ছাড়া হঠাৎ করে উপাত্ত পরিবর্তন হলে, নতুন কোনো তথ্য এলে, কিংবা গঠিত ছকে আলাদা কোনো প্যারামিটার যোগ হলে এআই সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিতে সক্ষম। এতে করে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বাজেট প্রস্তুত ও মুদ্রার প্রবাহের ওপরে প্রতিবেদন তৈরিতে এআই এক রকমের সিদ্ধহস্ত।

আরও পড়ুন: এআই, পর্ব-৪ / কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: করপোরেট লেখকদের কী হবে

 

শুধু বাজেট না, যেকোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ওঠানামা, শেয়ার নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা ও বাজার সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা দেয়ার সক্ষমতা এআই’র আছে বলে জানান চেইশিভিলি। তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই বোঝেন না শেয়ারবাজারে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা লাভজনক হবে, কতদিনের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ তুলে আনতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে ভবিষ্যৎ বাজারে এআই হবে নির্ভরযোগ্য। এতে করে দেখা যায় একেবারে প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তি পর্যায়, সবখানের আর্থিক হিসাবনিকাশে পাকা খেলোয়াড়ের মতো নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে সক্ষম এআই।
 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআই যদি একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সেটির বার্ষিক বাজেট তৈরি করতে পারে, তাহলে সেদিন খুব বেশি দূরে নেই যেদিন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাজেট তৈরিতে এআই মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে বিগত সময়ের তথ্য-উপাত্ত, টাকা খরচের ইতিহাস ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে খাতওয়ারি বরাদ্দে মানুষের থেকে নির্ভুল হিসাব করতে পারবে এআই- এমনটাই মনে করেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

 

বিল্টইনের এক জরিপে দেখা যায়, গত বছর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের বাজারমূল্য ছিল ৯ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন। আগামী ২০৩০ সালের এ মূল্যমান সাড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ২৭ শতাংশ পণ্য ক্রয় ও টাকা পরিশোধ হয়েছে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ডকে আরও উপযোগী এবং সাশ্রয়ী করতে এআই ব্যবহার করছেন। অনেক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী আবার নিজেদের টাকা যাতে সঠিকভাবে খরচ হয় সেজন্য নানা ধরনের এআই নির্ভর অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

 

আরও পড়ুন: এআই, পর্ব-৩ / কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: যেভাবে বদলে যাবে গণমাধ্যম
 

এরইমধ্যে যুক্তরাষ্টভিত্তিক কোম্পানি ইনোভা, অকরোলাস, ডাটারোবট, সাইন্সপ্যাটিক, জেস্ট ও আন্ডাররাইট নিজেদের অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে মানুষের বদলে এআই’র সাহায্য নিচ্ছে। সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করে ৪৪৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মুদ্রার অপচয় রোধ করতে পারবে। এতে করে সহজেই অনুমেয়, এআই হিসাবনিকাশের জায়গা থেকে অর্থনীতিতে বড় রকমের এক বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে।

 

বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি নিরূপণ, ঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থা, ভুয়া ভোক্তা শনাক্তকরণ, ক্রেডিট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অর্থনৈতিক পরামর্শ প্রদান, সাইবার আক্রমণ প্রশমন, ২৪ ঘণ্টা গ্রাহক সেবা নিশ্চিতকরণ, প্রতিবেদন তৈরি ও টাকার অপচয় রোধে এআইকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: এআই, পর্ব-২ / যোগাযোগ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লব ঘটাবে যেভাবে

ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটির ৫৪ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৫ হাজার কর্মকর্তা নির্ভুল কাজের নিশ্চয়তা পেতে বর্তমানে এআই’র ওপর নির্ভরশীল। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ানের এআই ইনো (এআই) এবং ব্যাংক অব আমেরিকার এরিকা (এআই) ব্যাংকিংখাতে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

 

যা বলছে চ্যাটজিপিটি: 
 

এআই দিয়ে কি আদৌ জাতীয় বাজেট প্রস্তুত করা সম্ভব? চ্যাটজিপিটিকে এমন প্রশ্ন করলে চ্যাটজিপিটি জানায়, জাতীয় বাজেট তৈরিতে চ্যাটজিপিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। বিশেষ করে বিশ্লেষণধর্মী পূর্বাভাস, দেশীয় সম্পদের পরিমাণ ও বরাদ্দ ও সুক্ষ্ম এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই বড় রকমের ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে মনে করে চ্যাটজিপিটি।

 

চ্যাটজিপিটি জানায়, ডাটা অ্যানালাইসিস অর্থাৎ উপাত্ত বিশ্লেষণে একটি দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস, খাত অনুযায়ী পূর্ববর্তী সময়ে মুদ্রার ব্যবহার ও অর্থনীতির নানা ধাচের ছক কষতে এআই পারদর্শী। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের খাত নির্ণয়, বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাজারের অবস্থা ও সরকারের সক্ষমতা নির্ণয়ে এআই বড় রকমের ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এ ছাড়া কোন ধরনের পরিকল্পনা করে রাষ্ট্র তার ব্যয় কমাতে পারে ও কোন ধরনের পরিকল্পনা রাষ্ট্রকে বিপদে ফেলতে পারে এসব ব্যাপারেও এআই একটি দেশের অর্থ বিভাগকে সাহায্য করতে পারবে।

 

আরও পড়ুন: এআই, পর্ব-১ / কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যেভাবে সহজ হবে প্রাত্যহিক জীবন

 

বেশিরভাগক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি দেশের বাজেট পরিকল্পনায় সরাসরি জনগণের সম্পৃক্ততা থাকে না। এক্ষেত্রে আগামী বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা জানতে এআই’র মাধ্যমে জরিপ চালালে সংশ্লিষ্ট সরকার জনমতের ভিত্তিতেও বড় রকমের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানায় চ্যাটজিপিটি। একদিকে এআই’র সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ, অন্যদিকে মানুষের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মিশেলে মেশিন ও মানুষযোগে একটি স্মার্ট বাজেট তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করে চ্যাটজিপিটির মতো এআই।

 

যেখানে ব্যাংকিংখাতের বাঘা বাঘা হিসাবনিকাশে এআই হয়ে উঠছে পারদর্শী, সেখানে একথা বলা অতিরঞ্জন হবে না- আগামী দিনে নানা দেশের বাজেট প্রস্তুতে এআই থাকবে মুখ্য ভূমিকায়। বিশেষ করে খাতওয়ারি বরাদ্দে মানুষের থেকে নির্ভুল কাজ করবে এআই- এমনটাই মনে করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *