Skip to content

‘মাছ-মাংস, ডিম খাওয়া ছাইড়্যা দিছি’ | বাণিজ্য

‘মাছ-মাংস, ডিম খাওয়া ছাইড়্যা দিছি’ | বাণিজ্য

<![CDATA[

আব্দুস সালাম মোল্লা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। সবজির বাজারে তার সঙ্গে কথা হয় সময় সংবাদের। তিনি বলেন, ‘দুই মাসে মাছ-মাংস, ডিমের দাম কমে নাই, উল্টা বাড়ছে। আগে শুক্রবার আইলে পোলাপান নিয়া ভালোমন্দ খাইতাম, এখন শুধু সবজি-ভাত খাই। মাছ-মাংস, ডিম খাওয়া ছাইড়্যা দিছি।’

আব্দুস সালামের মতো অবস্থা অনেকেরই। কয়েক মাস আগেও যেখানে ডিমের ডজন ছিল ৯০-১০০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ২৫০-২৬০ টাকা কেজিদরে, যা দাম বেড়ে হয়েছে ৩২০-৩৪০ টাকা।
 

উত্তরবাড্ডায় মুরগি ক্রেতা সাফওয়ান সময় সংবাদকে বলেন, ‘আগে বাজারে এলে একবারে চারটি মুরগি কিনে নিয়ে যেতাম। এখন একটা কিনি। প্রতি সপ্তাহেই ভাবি মুরগির দাম কমবে। কিন্তু কমে না। যারা আগে সোনালি মুরগির দাম বেশি ভেবে ব্রয়লার কিনত, তারা এক রকমের মাংস খাওয়াই বাদ দিয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০-১৯০ টাকা। এটা তো কোনো দাম হতে পারে না।’

 

এক বছর ধরেই বাজারে গরু-খাসির দাম ছিল আকাশচুম্বী। এবার মুরগির দাম বাড়ায় আমিষের চাহিদা মেটাতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা হিমশিম খাচ্ছে। মধ্যবাড্ডা কাঁচাবাজারে গরুর মাংস বিক্রেতা শামসুল হক বলেন, এখন অনুষ্ঠান ছাড়া মানুষ খুব এক গরুর মাংস কেনে না। আগে শুক্রবার মানেই ছিল ভালোমন্দ খাওয়া-দাওয়া। দামের কারণে এই রেওয়াজ উঠে গেছে।

 

এদিকে মাছের বাজারেও প্রায় প্রতিটি মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশি। ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় বাজারে ইলিশের কোনো ধরনের পসরা বসেনি। শান্তিনগর মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় সাইজের রুই-কাতল বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৫০ টাকা কেজিতে, তেলাপিয়া মাছ ২০০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, পোয়া মাছ ৬০০-৬৫০ টাকা, রূপচাঁদা ১০০০-১২০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০-৭০০ টাকা ও শিং-মাগুর ৪৫০-৫০০ টাকা কেজিদরে।
 

আরও পড়ুন:  বাজারে শীতের আগাম সবজি, দামও কম
 

সবজি বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম, টমেটো, বেগুন ও গাজর। রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়, বড় সাইজের গোল বেগুন ১২০-১৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা কেজিদরে। বাকি সবজির দাম আগের সপ্তাহের মতোই আছে। বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে শুধু পেঁপে। প্রতি কেজি পেঁপের দাম ৩০-৪০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি সবজির দামই ৫০ টাকার ওপরে।

 

এদিকে বাজারে দেখা দিয়েছে চিনির সংকট। বাড্ডা এলাকার অনেক দোকানে খোলা চিনি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দামের তারতম্যের কারণে তারা চিনি আনছেন না। দাম ঠিক হলে আবার চিনি আনবেন। তবে বাজারে ৯৫ টাকা কেজিদরে পাওয়া যাচ্ছে প্যাকেটজাত চিনি।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *