Skip to content

মুসলিমরা কেন কোরআন পোড়ানোর বিরুদ্ধে? | আন্তর্জাতিক

মুসলিমরা কেন কোরআন পোড়ানোর বিরুদ্ধে? | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

সম্প্রতি ইউরোপের সুইডেন ও ডেনমার্কে বারবার পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এরই প্রতিক্রিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কয়েকটি মুসলিম দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্ব দ্রুতই এর ক্ষোভ জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, সুইডিশ ও ড্যানিশ রাষ্ট্রদূতদের তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তেহরানে নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। ইরাক সুইডেনের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। এখানেই শেষ নয়, বাগদাদে শত শত ইরাকি সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকা উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।

 

মুসলিমরা কেন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ?

 

কোরআন ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ। একে সবচেয়ে পবিত্র গ্রন্থ মনে করা হয়। এটি মামুলি কোন বই নয়। বরং মুসলিমরা একে স্বয়ং আল্লাহর কালাম তথা বাক্য হিসেবে দেখে এবং সেভাবেই একে সর্বোচ্চ সম্মান ও গুরুত্ব প্রদান করে।

 

মুসলিমরা বিশ্বাস করে, পবিত্র কোরআন এখন থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে এর প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য আজও আগের মতোই সুরক্ষিত রয়েছে। আর এ কারণেই মুসলিমরা কোরআন পোড়ানোকে এর পবিত্রতার অবমাননা ও একটি অগ্রহণযোগ্য কাজ হিসেবে দেখে।

 

আরও পড়ুন: সুইডেনে ফের কোরআন অবমাননা, ‘বারবার’ পোড়ানোর হুমকি!

 

যেমনটা বলছেন তেহরানের প্রখ্যাত গবেষক আব্বাস সালিমি নামিন। পবিত্র কোরআন অবমাননার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা (কোরআন পোড়ানো) মুসলিমদের ধর্ম বিশ্বাসের অবমাননা। কিন্তু এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার নামে বিশাল একটা জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপমান করা হচ্ছে।’

 

ইসলামি মূল্যবোধ

 

মুসলিমরা মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (স.) মহান আল্লাহর সবশেষ ও চূড়ান্ত রসূল হিসেবে মূল্যায়ন করে। তার প্রতি কোনরূপ অসম্মান বা অপমান গর্হিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

মসজিদ হল মুসলিমদের ইবাদতের স্থান এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। মসজিদের প্রতি কোন প্রকার অবমাননা বা অসম্মান মুসলিমদের কাছে খুবই আপত্তিকর। যেমনটা অন্যান্য ধর্ম ও তাদের পবিত্র ব্যক্তিত্ব বা উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

 

মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক অপরাধ

 

পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর জনসংখ্যার একটা ক্ষুদ্র অংশ মুসলিম। এর বেশিরভাগই আবার অশ্বেতাঙ্গ তথা কৃষ্ণাঙ্গ। এর মধ্যে কিছু মুসলিমের বিশ্বাস, ইসলামের পবিত্র প্রতীকগুলোকে অমর্যাদার জন্য টার্গেট করা হচ্ছে। এটা মূলত মুসলিমদের প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা ও বিদ্বেষের অংশ যা ইউরোপের কট্টর ডানপন্থিরা আরও উসকে দিচ্ছে।

 

মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুসলিম অভিবাসী বয়কটের ডাক। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন ঠেকানোর পাশাপাশি এরই মধ্যে নাগরিকত্ব পেয়েছে এমন মুসলিমদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য জোর প্রচারণা শুরু করেছে ইউরোপের এই কট্টর ডানপন্থিরা। আর এক্ষেত্রে প্রায়ই তারা বলে থাকে যে, ‘মুসলিমদের এখনই না আটকালে অদূর ভবিষ্যতে তারা ইউরোপ দখল করে নেবে।’

 

আরও পড়ুন: প্রতিবাদের মুখে কোরআন অবমাননার নিন্দা জানালো ইইউ

 

সম্প্রতি সুইডেনে যে কোরআন পোড়ানো হয়েছে, এর পেছনে রয়েছে সুইডেনে বসবাসরত এক ইরাকি খ্রিস্টান। অনেকেই মনে করেন, ইউরোপে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দেয়াই এই কোরআন অবমাননার উদ্দেশ্য।

 

মুসলিম দেশগুলো যেভাবে কোরআন পোড়ানোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?

 

সৌদি আরব, ইরান ও পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই ইউরোপে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর নিন্দা জানিয়েছে। তারা মূলত বলেছে, কোরআন অবমাননার ঘটনা সহিংসতায় উসকানি দেয়ার পর্যায়ে পড়ে এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি দেশে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে সাধারণ মুসলিমরা।

 

এ ব্যাপারে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইরফান আহমাদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে মুসলিমরা মূলত প্রেম বা ভক্তির পাশাপাশি যুক্তিকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। কারণ আমরা জানি, কোরআন পোড়ানো শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়, বরং এটি চরম ঘৃণা ও অযৌক্তিকতার প্রকাশ।’

 

আরও পড়ুন: সুইডেনে পবিত্র কোরআনের এক লাখ কপি বিতরণ করবে কুয়েত

 

গত মাসে সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটিতে সদস্য দেশগুলোকে তাদের আইনগুলো পর্যালোচনা করার এবং সেসব আইনে ফাঁকফোকরগুলো পূরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব আইন ‘ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রচার এবং অপরাধমূলক কাজের প্রতিরোধ ও বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে পার’।  

 

 

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *