Skip to content

মুসলিম শিক্ষার্থীরা আজও কেন আল আজহারের স্বপ্ন দেখে | আন্তর্জাতিক

মুসলিম শিক্ষার্থীরা আজও কেন আল আজহারের স্বপ্ন দেখে | আন্তর্জাতিক

<![CDATA[

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক এ বিশ্ববিদ্যালয় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বে জ্ঞানের আলো জ্বেলে চলেছে।

আধুনিকতা, মেধা ও মননশীলতা ভিত্তি করে ইসলামি তথা দিনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী জ্ঞানের অন্বেষণে এখানে ছুটে আসেন।

স্বাধীনতা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও সাম্যের বার্তা নিয়ে সেসব শিক্ষার্থী আবার দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েন। আর তাই মুসলিমবিশ্বে আজও সমান জনপ্রিয় ও পড়াশোনার জন্য মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ এ বিশ্ববিদ্যালয়।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

মিশরীয়রা গর্ব ভরে বলে থাকেন, ‘ইসলাম ধর্মের কাবা মক্কায়। কিন্তু জ্ঞানের কাবা মিশরে।’ এর মাধ্যমে তারা মূলত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করেন।

মিশর উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতির জন্য বেশ পরিচিত দেশটি। মিশরে রয়েছে হাজার হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শন। যেগুলো দেখলে সহজেই অনুমান করা যায়, একসময় কতটা উন্নত নগরসভ্যতা গড়ে উঠেছিল এখানে।

নীল নদের তীরে অবস্থিত মিশর যুগে যুগে তার অগ্রযাত্রার ধারা অব্যাহত রেখেছে। অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় মধ্যম আয়ের দেশটির শিক্ষাব্যবস্থাও বেশ উন্নত। যার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, সাধারণ একটি মসজিদ থেকে আজ বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে আল আজহার। শুরুতে আল আজহার ছিল অনেকটা মাদ্রাসার মতো। এর শিক্ষাব্যবস্থা ছিল অনানুষ্ঠানিক।

শিক্ষার্থীদের ভর্তির দরকার হতো না। ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিক কারিকুলাম কিংবা কোনো ডিগ্রি। শিক্ষার্থীদের পড়ার বিষয় ছিল মূলত পবিত্র কোরআন-হাদিস, তাফসির, ইসলামি আইনশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা, আরবি ভাষা ও ব্যাকরণ ও অলংকারশাস্ত্র।

এভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাদানের পর উনিশ শতকের শেষদিকে এসে আল আজহারে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের ভর্তির নিয়ম চালু হয়। পুরোনো বিষয়গুলোর সঙ্গে যোগ করা হয় কিছু আধুনিক বিষয়। সেই সঙ্গে চালু হয় পরীক্ষাপদ্ধতিও।

বর্তমানে আল আজহার মিশরের শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকে র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।

মিশরীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার দেখভাল করে আল আজহার। মিশরের প্রায় পাঁচ হাজারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে আল আজহারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ।

মসজিদভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আল আজহার

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলাম ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি একটি সুসংঠিত ইসলামি সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা তার পরবর্তী চার খলিফার সময়ে মক্কা ও মদিনার সীমানা পার হয়ে পারস্য ছাড়িয়ে ভূমধ্যসাগরপাড়ের জেরুজালেম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।

কিন্তু একসময় বৃহৎ সেই ইসলামি সাম্রাজ্যে বিভাজন দেখা দেয়, যার ফলে একসময় একাধিক শাসকগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়, যারা তাদের নিজ নিজ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

এসব শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আব্বাসীয় খিলাফত ও ফাতেমি খিলাফত। ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয় খিলাফতের কাছ থেকে ফাতেমি খিলাফতের শাসক আল-মুইজ-লি-দ্বীন মিশর জয় করে নেন। এরপরই মিশরকে ফাতেমি খিলাফতের রাজধানী করা হয়।

ফাতেমি খিলাফতের রাজধানী হওয়ার পরপরই মিশরকে ঢেলে সাজানো হয়। নতুন রাজধানী নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় ফাতেমি সেনানায়ক জাওহর সিসিলিকে। তিনি আব্বাসীয় আমলের মিশরকে সংস্কার করে গড়ে তোলেন ফাতেমি খিলাফতের প্রশাসনিক কার্যালয়, নির্মাণ করেন নান্দনিক সব অট্টালিকা ও স্থাপত্য। শহরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কায়রো।

জাওহর সিসিলি নগর পরিকল্পনায় বিশেষভাবে একটি মসজিদের ডিজাইন যুক্ত করেন। তার পরিকল্পনানুসারেই গড়ে ওঠে ফাতেমি প্রশাসনের কেন্দ্রীয় মসজিদ জামিউল কায়রো। পরবর্তীকালে জামিউল কায়রোর নতুন নামকরণ হয় আল আজহার।

আল আজহার শব্দটি এসেছে আল জাহার থেকে, যার অর্থ দাঁড়ায় আলোকময় বা আলোকবর্তিকা। জামিউল কায়রো থেকে আল আজহার নামকরণ নিয়ে ইতিহাসে দুটি মত দেখা যায়। কোনো কোনো ইতিহাসবিদ মনে করেন, আল আজহার মসজিদের পারিপার্শ্বিক নান্দনিকতার জন্যই এর নাম আল আজহার।

তবে অধিকাংশের মতে, আল আজহার নামকরণ করা হয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় মেয়ে ফাতিমা আল-জাহার (রা)-এর নামানুসারে, তার সম্মানার্থে। নামকরণ নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটা ঠিক যে সেকালে আল আজহার মিশরকে সত্যিকার অর্থেই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছিল।

ফাতেমিরা যখন মিশর জয় করে নেয়, তখন সেখানকার অধিকাংশই ছিল সুন্নি মুসলিম। এদিকে ফাতেমিরা ছিল শিয়া মুসলিম। সে সময়ে শিয়া মতবাদ সম্পর্কে মিশরের সুন্নি মুসলিমদের তেমন ধারণা ছিল না। ফলে মুইজ-লি-দ্বীন শিগগিরই একটি শিক্ষাকেন্দ্র নির্মাণের আদেশ দেন।

৯৭০ বা ৯৭২ সালের দিকে আল আজহার মসজিদের প্রাঙ্গণে আরেকটি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যার নাম দেয়া হয় আজহার আল শরিফ, যা অনেকটা আজকের দিনের মাদ্রাসাগুলোর মতো। প্রথম শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মুইজ-লি-দ্বীনের বিশ্বস্ত বন্ধু আলি ইবনে আলনোমান। এখানে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা দেয়া হতো।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠা

৯৯৮ সাল মিশরে ফাতেমি খিলাফতের ২৯ বছর পেরিয়ে গেছে। মুইজ-লি-দ্বীন আল-আজহার মসজিদে যে ইসমাইলি শিয়া শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন, তখন তা মিশরের বেশ পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মতো জনপ্রিয় নয়।

ইয়াকুব ইবনে কিলিস, ফাতেমি সাম্রাজ্যের একজন বিচক্ষণ মন্ত্রী। তিনি উপলব্ধি করলেন, আল আজহারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে হলে শিক্ষাপদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। কারণ, তখন পর্যন্ত আজহারে কেবল ইসমাইলি শিয়া মতবাদই শিক্ষা দেয়া হতো। ইয়াকুব তার পরিকল্পনা খলিফা আজিজ বিল্লাহকে জানালে খলিফা অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ইয়াকুবের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আদেশ দেন।

৯৮৮ সালের পর আল আজহারকে তাই নতুন করে সাজানো হয়। ইসমাইলি শিয়া মতবাদের পাশাপাশি যোগ হয় আরবি সাহিত্য, আরবি ব্যাকরণ, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দর্শনের মতো বিষয়গুলো। নির্দিষ্ট করে শিক্ষাব্যবস্থার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রক্রিয়ায় যা যা থাকা প্রয়োজন, মোটামুটি তার সবই যুক্ত করা হয়। খলিফা মুইজ-লি-দ্বীনের প্রতিষ্ঠিত আল আজহারের ছোট মসজিদ রূপান্তরিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

পরবর্তী শাসকদের হাতে আল আজহারের সংস্কার

হাজার বছরের ইতিহাসে আল আজহারকে যতটা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সম্ভবত বিশ্বের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে সেভাবে যেতে হয়নি। মিশরে ৯৬৯ সালের পর যে ফাতেমি খিলাফত শুরু হয়, তার অবসান ঘটে ১১৭১ সালে।

মহান বিজেতা সালাউদ্দিন আইয়ুবি ফাতেমিদের ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরে ফের সুন্নি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেন।

এর কারণ, আজহারে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে শিয়া মতবাদ শিক্ষা প্রদান। কিছুদিন পরই শিয়া মতবাদের বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে চালু করা হয়।

আরব বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ মুসলিমই ছিল সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী। অন্যদিকে শিয়ারা ছিল সংখ্যালঘু। মূলত এ কারণেই আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়কে ফাতেমি শাসকরা ঢেলে সাজালেও এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি।

মিশরে আইয়ুবি শাসন শুরু হলে সুন্নি মুসলিমদের কাছে আল আজহারের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। তবে আল আজহার এখন যতটা বিখ্যাত বা গুরুত্বপূর্ণ, তা অর্জন করতে আরও অনেক সময় লেগেছিল।

যেভাবে জগদ্বিখ্যাত হয়ে ওঠে আল আজহার

মধ্যযুগের ইতিহাসে চোখ বুলালেই দেখা যাবে, ঋতুবদলের মতো ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। সালাহউদ্দিন আইয়ুবি ফাতেমিদের পতন ঘটান। কিন্তু কিছুকাল পরই মামলুকদের উত্থানে মিশরে আইয়ুবি শাসনেরও অবসান হয়।

আল আজহার প্রতিষ্ঠার পর মিশরের শাসনব্যবস্থা যতবার পরিবর্তিত হয়েছে, ঠিক ততবারই আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েরও আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক পরিবর্তন আসে মামলুক শাসনামলে (১২৫০-১৫১৭ সাল)। অনেক ঐতিহাসিক মামলুক শাসনামলকে ‘আল আজহারের পুনর্জাগরণ কাল’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মিশরে তখন মামলুক সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্সের (১২২৩–১২৭৭) শাসন চলছে। সেই সময় শুরু হয় মঙ্গল তাণ্ডব। মঙ্গলদের বর্বর আক্রমণে পতন হয় আব্বাসীয় খিলাফতের। আব্বাসীয়দের রাজধানী বাগদাদ নগরীকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয় মঙ্গল বাহিনী। শুধু বাগদাদই নয়, মঙ্গল আক্রমণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় অর্ধেক পৃথিবী।

কিন্তু মঙ্গলদের উত্থানের সঙ্গেও আল আজহারের পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, মঙ্গল বাহিনী তখন অর্ধেক পৃথিবী ধ্বংস করে দিলেও মিশরে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে বাগদাদভিত্তিক মুসলিমদের যে শিক্ষিত শ্রেণি গড়ে উঠেছিল, তারা সবাই মিশরে আশ্রয় গ্রহণ করে বা বলা যায়, বাগদাদসহ মঙ্গল রোষানলে বেঁচে যাওয়া অধিকাংশ মানুষ মিশরে চলে যায়।

এতে তৎকালের অধিকাংশ জ্ঞানী ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সমন্বয়ে মিশর যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, তেমনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ও পৌঁছে যায় এক অনন্য উচ্চতায়। সেই সঙ্গে সুন্নি মুসলিমদের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্রের খেতাবটাও জোটে তখনই।

১৫১৭ সালে মামলুকদের পরাজয়ের পর মিশরের ক্ষমতা চলে আসে তুর্কি ওসমানীয় শাসনাধীন। মামলুক আমলে যে আভিজাত্যের ছোঁয়া আল আজহার পেয়েছিল, ওসমানীয় আমলেও তা বজায় থাকে। তৎকালের বিখ্যাত মুসলিম আলেমরা আজহারে শিক্ষকতা করেছেন। সেখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে মুসলিমবিশ্বে বিখ্যাত হয়েছেন এমন গুণিজনের সংখ্যা অগুনতি।

আধুনিক যুগের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিরাষ্ট্রের মতবাদ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯২২ সালে মিশরও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ১৯৬২ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন।

সেই সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, মেডিসিন, চিকিৎসা ও প্রকৌশলের মতো বিষয় সংযোজন করেন। ওই বছরই প্রথমবারের মতো নারীদেরও আল আজহারে পড়ার সুযোগ দেয়া হয়। এরপর গত ৬০ বছরে আল আজহারের আরও বিস্তার ও আধুনিকায়ন ঘটেছে।

আল আজহারের শিক্ষা কারিকুলাম: বর্তমানে আল আজহার পাঠ্যসূচি ও কলেবরে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সঙ্গে আরব বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলো তিনটি ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে। তা হলো: ইসলামি ও আরবি, বিজ্ঞান ও মানবিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৮১টি অনুষদ। যার ৪০টি মেয়েদের জন্য ও ৪১টি ছেলেদের জন্য। অনুষদগুলোর অধীন ৩৫৯টি বিভাগ রয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ইনস্টিটিউটও রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ৪২টি সেন্টার, ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও ২৭টি প্রশাসনিক ইউনিট।

ইসলাম ধর্মবিষয়ক অনুষদ রয়েছে ৬টি। সেগুলো হলো: ১. শরিয়া ও আইন অনুষদ, ২. ধর্মতত্ত্ব অনুষদ, ৩. আরবি ভাষা অনুষদ, ৪. ইসলামি শিক্ষা ও আরবি অনুষদ, ৫. ইসলামি দাওয়া অনুষদ, ৬. ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ। তবে বর্তমানে ইসলামি ও মানবিক শিক্ষার চেয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশলেই বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।

স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষক সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৭ জন। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৫৬০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের অনুপাত ৬২:৩৮। অর্থাৎ, প্রতি ৬২ জন ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮ জন।

শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ হাজার ১৫৫ শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। শিক্ষকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক যুক্ত আছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন এ প্রতিষ্ঠানে।

আল আজহারের কৃতী শিক্ষার্থীরা

সুপ্রাচীন এই বিদ্যাপীঠ থেকে যুগে যুগে কোরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহসহ আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের ওপর বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করে হাজার হাজার পণ্ডিত বিশ্বের জ্ঞানজগতে আলো ছড়িয়েছেন।

এর মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদ আল্লামা ইমাম ইবনে হাজার (মৃত্যু: ৮৫২), ইমাম সাখাবি (মৃত্যু: ৬৪৩), ইমাম সুয়ুতি (মৃত্যু: ৯১১), জাহেদ কাউসারি (মৃত্যু: ১৩৭১) ও আল্লামা ইউসুফ কারজাভির (মৃত্যু: অক্টোবর, ২০২২) মতো যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ফকিহ।

আল আজহারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে

বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের মানুষের কাছেই আল আজহারের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি ছাত্রদেরও গুরুত্বের সঙ্গে শিক্ষা দিয়ে থাকে। বিশ্বের বহু দেশের মতো প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হয়।

কিছুদিন আগেই শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা ছিল ১৫। সম্প্রতি তা উন্নীত করে ৫০টি করা হয়েছে। স্কলারশিপের পাশাপাশি আল আজহারে নিজ খরচেও পড়ালেখা করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রাবাস নির্মাণে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আল আজহারে একটি বাংলা ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আজহারে ১০২টি দেশের ছাত্ররা পড়াশোনা করছেন। এর মধ্যে ৪০০ জনের মতো আছেন বাংলাদেশি।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *