Skip to content

রাঙামাটিতে বৈসাবির উৎসবে রঙিন পাহাড় | বাংলাদেশ

রাঙামাটিতে বৈসাবির উৎসবে রঙিন পাহাড় | বাংলাদেশ

<![CDATA[

উৎসবপ্রিয় পাহাড়িরা। সারা বছর মেতে থাকেন নানান অনুষ্ঠানে। তবে তার সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বাংলা বর্ষ বিদায় ও বরণ উৎসব, যা বৈসাবি নামে পরিচিত। ২৯ চৈত্র গঙ্গা দেবীর আরাধনায় কাপ্তাই হ্রদের ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে বৈসাবির মূল আয়োজন। এ আয়োজনটি ফুল বিজু নামে পরিচিত।

বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে শহরের রাজবাড়ি, গর্জনতলী, কেরানীপাহাড়সহ প্রতিটি পাড়ায় হ্রদে ফুল ভাসানো হয়।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বয়সি পাহাড়িরা ফুল নিয়ে আসতে শুরু করে বিভিন্ন ঘাটে। খুব ভোরে গঙ্গাদেবীর আরাধনায় নদীতে ভাসানো হয় ফুল। আর তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব।

উৎসবে নারীরা বাহারি রঙের পিনোন হাদি পরে আর ছেলেরা ধুতি, পাঞ্জাবি অথবা ফতুয়া পরে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর উৎসবে মেতে ওঠে।

রাজবাড়ীঘাট ফুল ভাসিয়ে অমিয় চাকমা জানান, এটি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ঐহিত্যবাহী সামাজিক উৎসব। ফুল ভাসিয়ে আমরা গঙ্গাদেবীর আরাধনা করি।

নমিতা চাকমা বলেন, এই দিনে আমরা বিদায়ী বছরের সব গ্লানি, ব্যর্থতা হ্রদের জলে ভাসিয়ে দেয়। আর প্রার্থনা করি আগামী বছরটা যাতে সবার জীবনে সুখ সমৃদ্ধি বয়ে আনে।

আরও পড়ুন: পাহাড়ে প্রাণের বৈসাবির শৌখিন খেলা

গর্জনতলী ঘাটে ফুল ভাসাতে আসা অয়ন্তি ত্রিপুরা বলেন, সকাল ফুল সংগ্রহ করে ঘর সাজিয়ে এখন ফুল ভাসাতে এসেছি। ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে পুরনো বছরের দুঃখ বেদনাকে ভাসিয়ে দিলাম এবং নতুন বছর যেন আরও অনেক সুন্দর হয়।

ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসুক। পাহাড়ের বসবাসকারী সব সম্প্রদায় মিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারি, এই ফুল বিজুর মাধ্যমে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ফুল ভাসানো অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমরা যাতে সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সব জাতিগোষ্ঠী এক হয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে পারি। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও আগ্রযাত্রায় শামিল হতে পারি এমন প্রার্থনা জানালাম। আমাদের মাঝে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে দৃষ্টান্ত আছে তা আরও সুদৃঢ় হোক।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার বলেন, পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। পাহাড়ের এই ঐতিহ্য নিয়ে শতবর্ষ ধর আমরা বসবাস করে আসছি।

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজনে বৈসাবি উৎসব শুরু

তিনি আরও বলেন, আগে বৈসাবি উপলক্ষে কোনো ছুটি ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বৈসাবি উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি দিয়েছেন। তা ছাড়া পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ে ভাষা সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে আমাদের সরকার সহায়তা করে যাচ্ছে। আমরা চাই না কোন জাতির কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ভাষা হারিয়ে যাক। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) পালিত হবে বিজু উৎসব। এই দিন পাহাড়ি সম্প্রদায় সবাই পাজন দিয়ে আপ্যায়ন করবে। এ ছাড়াও থাকবে বিভিন্ন দেশি খাবার আর বাহারি সব ফল।

চাকমারা বিজু, ত্রিপুরা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু ও অহমিয়ারা বিহু এভাবে তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে এই দিনটি পালন করে। পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামী ১৬ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায়ের জলকেলির মধ্য দিয়ে শেষ হবে। সঙ্গে সম্পন্ন হবে পাহাড়ে বৈসাবির সকল আনুষ্ঠানিকতা।

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *