Skip to content

সিন্ডিকেট ভাঙলেই ক্রয়ক্ষমতায় আসবে মাছ-মাংস | বাংলাদেশ

সিন্ডিকেট ভাঙলেই ক্রয়ক্ষমতায় আসবে মাছ-মাংস | বাংলাদেশ

<![CDATA[

মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হলে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। সম্প্রতি রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায় নিজ বাসভবনে সময় সংবাদকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা একটি ফার্ম থেকে মুরগির ডিম ঢাকায় নিয়ে আসেন। তারপর প্রথমে সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলীতে নামেন, এরপর একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। তখন তারা সিন্ডিকেটের মধ্যেই দাম নির্ধারণ করে বলেন যে ‘বাজারে বলবা ডিমের হালি এত টাকার কমে আমরা বিক্রি করতে পারবো না।’

 

‘ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেয়া যায়, তাহলে দেখবেন মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এটা যে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে দেয়া সম্ভব, তা আমরা ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে দেখিয়েছি। আমরা তো লোকসান দিয়ে বিক্রি করিনি,’ বলেন রেজাউল করিম

 

পবিত্র রমজানে সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমাণ দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
মৎস্যমন্ত্রী বলেন, 

আমরা যদি কিনে এনে বিক্রি করতে পারি, সহজ দামে, তাহলে অন্যরা কেন পারবে না? এই বাজার ব্যবস্থাকে ঢেলে না সাজালে খামারিরা দাম পাবে না। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, হবে। এতে মাঝখানে যারা থাকছেন, তারা বেশি পয়সা নিয়ে যাচ্ছেন। আবার ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক বেশি দামে তাকে কিনতে হচ্ছে। কাজেই বাজার ব্যবস্থাপনার সিন্ডিকেটের ওপর মনিটরিং জোরালো করা দরকার। তাহলে ভোক্তা ও উৎপাদকেরা উপকৃত হবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের একতরফা সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের তরফে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিনা; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা এ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে না। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। তারা দেখতে পারে। তাদের ভোক্তা অধিকার আছে। তাদের বিভিন্ন টিম আছে, যারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারে।

 

তিনি বলেন,

বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে আমাদের মন্ত্রণালয়ের বাইরে। আমরা উৎপাদন প্রক্রিয়ার রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে কাজ করি। যে সহায়তা করা দরকার, সেটা করি। আমাদের সহায়তায় উৎপাদন বেড়েছে।

‘কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনা তো আমাদের দায়িত্ব না। তবে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থাপনা থেকে আমরা এই বার্তা দিচ্ছি যে এই পণ্য কম দামেও বিক্রি করা সম্ভব। আর আমাদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় থেকে যারা উপকৃত হয়েছেন, তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। এটা আমার জন্যও তৃপ্তি,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট, জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড চান শিল্পপ্রতিমন্ত্রী
 

বর্তমানে বিভিন্ন কারণে দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতি। আপনার মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, খামারিদের স্বার্থ ঠিক রেখে ক্রেতা পর্যায়ে মূল্য যাতে সহনশীল থাকে, তা নিশ্চিত করা। এই চ্যালেঞ্জটা কীভাবে মোকাবিলা করছেন; জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় উল্লেখযোগ্য যেসব বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম। এগুলো মানুষের শরীরের জন্য অপরিহার্য। এগুলো প্রথমত, মানুষের খাবারের একটা অংশের যোগান দেয়, শুধু চাল-গম-ভুট্টা দিয়ে তো খাবার হয় না। সবজি, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম লাগে। সেই যোগানটা আমরা দিই। দ্বিতীয় হচ্ছে, মানুষের শরীরে প্রাণিজ আমিষের পুষ্টির যে চাহিদা, সেটা কিন্তু এই মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম না হলে হতো না। কেবল খাবারই না, তার আমিষের চাহিদাটাই আমরা যোগান দিই।’

 

তিনি বলেন, ‘তৃতীয় হচ্ছে এই খাতের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা কিন্তু এখানে চাকরি করে না, উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে। তারা যদি এই খাতে যুক্ত না হতেন, তাহলে ১ কোটি লোক বেকার থাকত। এই মানুষগুলো তাকিয়ে থাকতেন—সরকার কবে আমাদের চাকরি দেবে। তাহলে বেকারত্ব দূর হচ্ছে, পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়াও গ্রামে সরকারের টাকার সরবরাহ দেয়া লাগত। এখন যিনি দুধ উৎপাদন করেন, তিনি তা বিক্রি করে টাকা পাচ্ছেন। মাছ উৎপাদনকারী তা বিক্রি করে টাকা পাচ্ছেন। যিনি খাসি, ভেড়া, গরু ও ছাগল উৎপাদন করেন, তিনি তা বিক্রি করে উপার্জন করছেন। আবার গ্রামীণ অঞ্চলের খাবারের চাহিদাও তারা মেটাচ্ছেন।’

 

মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি এই খাত থেকে ভীষণভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পৃথিবীর প্রায় ৫২টি দেশে মাছ রফতানি করা হচ্ছে। এ দেশগুলো থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। যা দেশের অবকাঠামোগত ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে বড় ধরনের একটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

 

আরও পড়ুন: ক্রেতা কম, তবুও লাগামহীন নিত্যপণ্যের দাম

 

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘যেসব জায়গা পরিত্যক্ত থাকত, যেখানে ধান হয় না, লবণাক্ত, সেই জায়গাটাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারছি। কোনো জায়গা অব্যবহৃত থাকছে না। আবার আমাদের সমুদ্রসীমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনীতির কারণে বাংলদেশের সমপরিমাণ জায়গার মালিকানা পেয়েছি। সেই জায়গা থেকে প্রচলিত মাছের বাইরে শৈবাল আহরণ, গভীর সমুদ্র থেকে আমাদের সম্পদ নিয়ে আমরা গবেষণা করছি। কাজ করছি। সব মিলিয়ে এই খাত দেশের উন্নয়নে একটা অভাবনীয় অকল্পনীয় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে ২০০৮ কিংবা ২০০৯ সালে আমাদের মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ দশমিক এক লাখ মেট্রিক টন, কিন্তু ২০২১ ও ২০২২ সালে সেখানে ৪৭ দশমিক ৫৯ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে।’

অর্থাৎ বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই ২৭ থেকে ৪৭ হতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। মৎস্যজীবীরা যখন মাছ আহরণ করতে পারছেন না, তখন তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান করতে হয়েছে। ভিজিএফের চাল, মুরগি, ভেড়াসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে হচ্ছে তাদের। তাদের কর্মক্ষম করছি। বিনাপয়সায় তাদের ট্রলার দিয়ে দিচ্ছি। ইঞ্জিনচালিত জাহাজ দিয়ে দিচ্ছি, যাতে তারা মাছ ধরতে পারে। তাদের কো-অপারেটিভ সোসাইটি করে খুবই স্বল্পসুদে সহজশর্তে ঋণ দিয়ে দিচ্ছি—যে এই খাত থেকে যাতে উন্নয়ন ঘটে
 

 

তিনি বলেন, ‘একইভাবে যারা প্রাণিসম্পদে কাজ করছেন, তাদেরও সহায়তা দিচ্ছি। প্রাণিখাদ্যের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনতে হয়, সেটির উৎসে কর আমরা মওকুফ করে দিয়েছি। এ ছাড়া প্রাণিখাদ্য উৎপাদন শিল্পের যন্ত্রপাতি আনতে উৎসে কর আমরা মওকুফ করে দিয়েছি। আমাদের চিকিৎসকরা বিনাপয়সায় তাদের গরুর রোগ দেখছে। বিদেশ থেকে অনেক টাকায় টিকা এনে বিনাপয়সায় আমরা গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ এমনকি, অন্য যেসব প্রাণি আছে, তাদের দিচ্ছি। এই আজকে আমরা মাংসে স্বয়সম্পূর্ণ হয়েছি, মাছে স্বয়সম্পূর্ণ হয়েছি, দুধের কাছাকাছি, ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তা কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়নি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই হয়েছে। এখন যারা উৎপাদন করছে, তারা যদি একটু সহনশীল মাত্রায় লাভ করেন, তাহলে বাজারের এই অবস্থা থাকে না। সহনশীল পর্যায়ে লাভ করতে হবে।’

]]>

সূত্র: সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *